• আজ শুক্রবার, ২২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৬ আগস্ট, ২০২১ ৷

আবু ত্ব-হার ‘আত্মগোপনের’ কথা বিশ্বাস হচ্ছে না মায়ের


❏ শনিবার, জুন ১৯, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ব্যক্তিগত কারণে গাইবান্ধায় এক বন্ধুর বাড়িতে ‘আত্মগোপনে’ ছিলেন- এ কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না তার মা আজেদা বেগম ও বন্ধুরা। পুরো ঘটনাটি রহস্যজনক দাবি করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। শনিবার সকালে এসব কথা জানান স্বজনরা।

এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত কারণে ‘আত্মগোপনে’ ছিলেন আবু ত্ব-হা। তবে ব্যক্তিগত কারণ সম্পর্কে কিছুই জানায়নি তারা। গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আবু ত্ব-হাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানালেও সাংবাদিকদের সামনে তাকে হাজির করা হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে তাকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা চলছে।

আবু ত্ব-হাকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আনার খবর পেয়ে দেখতে আসেন তার দুই বন্ধু সুমন ও রাহাত। তারা বলেন, ‘গোয়েন্দা কার্যালয়ে আবু ত্ব-হাকে দেখে বিধ্বস্ত মনে হয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদেরকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়েছে পুলিশ। পরে শুনলাম আত্মগোপনে থাকার কথা। এটি অবিশ্বাস্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আট দিন নিখোঁজ থাকার পর কীভাবে আবু ত্ব-হা রংপুরে শ্বশুরবাড়িতে এলেন, আসলে তিনি কোথায় ছিলেন? তা জানার চেষ্টা চলছে। কিন্তু কোনও কথাই বলছেন না তিনি। শুধু বলছেন, আমার বাড়িতে না গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসেছি।

আবু ত্ব-হা কীভাবে নিখোঁজ হলেন জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা পুলিশকে কিছু জানিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তা আমি বলতে পারবো না।

গত আট দিন আপনার ছেলে কোথায় ছিল কিছু জানতে পেরেছেন কি না- প্রশ্নের জবাবে আবু ত্ব-হার মা আজেদা বেগম বলেন, আমি জানি না। তবে আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি বিশ্বাস হচ্ছে না।

শুক্রবার বিকেলে মহানগর ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মহানগর পুলিশের ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, আবু ত্ব-হা ব্যক্তিগত কারণে গাইবান্ধায় এক বন্ধুর বাড়িতে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আবু ত্ব-হা পুলিশকে জানিয়েছেন, ১০ জুন বিকেলে রাজধানীর গাবতলী থেকে স্ত্রীর মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে সর্বশেষ কথা বলেন। এরপর মোবাইল ফোন বন্ধ করে তিন সঙ্গী মুজাহিদ, মুহিত ও গাড়িচালক আমির উদ্দিনকে নিয়ে বগুড়ায় যান। পরে মুজাহিদকে বগুড়ায় রেখে আমির উদ্দিন ও মুহিতকে সঙ্গে নিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনীতে এক বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপন করেন।

শুক্রবার বিকেলে রংপুর মহানগরীর মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন আবু ত্ব-হা। তার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনও গোষ্ঠী কিংবা কেউ জড়িত ছিলেন না বলে আমরা ধারণা করছি।

উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন আরও বলেন, খবর পেয়ে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দেশ কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী অথবা ষড়যন্ত্রমূলক কোনও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

আত্মগোপনে থাকার ব্যক্তিগত কারণ কী ছিল জানতে চাইলে আবু মারুফ হোসেন বলেন, পুলিশকে অনুরোধ করায় তার ব্যক্তিগত কারণ জানাতে পারছি না।

আবু ত্ব-হার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনও অভিযোগ আছে কি না- জবাবে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনও অভিযোগ নেই। পুরো ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি।

আট দিন ধরে আবু ত্ব-হা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পুলিশ কেন তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি- জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কথা বলতে চাই না। তাকে আদালতে তোলা হবে। সেখানে বিস্তারিত জানাবেন তিনি।

তাকে কেন সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হলো না- আবু মারুফ হোসেন বলেন, ‘আবু ত্ব-হা ও তার সঙ্গী আমির হোসেন পুলিশ হেফাজতে থাকবেন। আদালতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিখোঁজের আট দিনের মাথায় আবু ত্ব-হা আদনান আজ বিকেল ৩টার দিকে রংপুর নগরীর মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। তখন গাড়িচালক আমির হোসেন তার সঙ্গে ছিলেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ তার শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন। পরে আবু ত্ব-হা ও আমির হোসেনকে পুলিশের গাড়িতে তুলে কোতোয়ালী থানায় নেওয়া হয়। কোতোয়ালী থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয় তাদের। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত ১০ জুন বিকেল ৪টার দিকে তিন সঙ্গীকে নিয়ে আবু ত্ব-হা আদনান রংপুর থেকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে করে ঢাকায় আসছিলেন। ওই দিন সর্বশেষ স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার কথাও হয়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে মুজাহিদ, মুহিত ও আমিরও নিখোঁজ হন। ওই দিন রাত থেকে তাদের সবার মোবাইল বন্ধ। এ ঘটনায় রংপুর কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার মা আজেদা বেগম।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন