• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

শাহজাদপুরে রিং বাঁধ নির্মাণে প্রতিবছর ব্যয় ২ কোটি টাকা, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি


❏ শনিবার, জুন ১৯, ২০২১ রাজশাহী

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রাউতরায় ১ কিলোমিটারের একটি রিং বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর ২ কোটি টাকা ব্যয় করে। অথচ একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করলে প্রতিবছর সরকারের এতো পরিমাণ টাকা জলে যেত না।

খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের কাছে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও চলনবিলের লাখ লাখ হেক্টর কৃষি জমির ধান রক্ষায় ১৯৮৬ সালে শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতরা থেকে নাটোরের তারাশের নিমাইচরা পর্যন্ত প্রায় দেড়শো কিলোমিটার বাঁধ ও রাউতরায় নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য ১১টি দরজা বিশিষ্ট একটি সুইচ গেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে ১৯৮৮ সালে শেষ হয়।

নির্মাণ শেষের বছর ১৯৮৮ সালে দেশব্যাপী ইতিহাসের ভয়াবহতম বন্যা হয়, বন্যার পানির প্রবল চাপ ও সুইচ গেটের অপ্রতুল দরজার কারণে নির্মাণের বছরই এই বাঁধের রাউতরায় ১ কিলোমিটার অংশ ভেঙে যায়। ফলে সেসময় এই অঞ্চলটি পানির নিচে তলিয়ে যায়।

সেই থেকে প্রতিবছর এই অঞ্চলের কৃষি জমির ধান রক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্দোগে এই স্থানে বালি দিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে রিং বাঁধ তৈরি করা হয়। বাধটির নির্মাণ কাজ মার্চ মাসে শুরু হয় এবং বাঁধের স্থায়িত্ব ২৮ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, এই বাঁধটি প্রতিবছরই দুর্বল অবকাঠামো দিয়ে সাধারণ ভাবে তৈরি করা হয়। অনেক সময় নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধের কিছু অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয় ও আমাদের উ‌ৎপাদিত ধান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে ধান কেটে ঘরে তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়, অনেক সময় ধান কাটা সম্ভব হয়না। প্রতি বছরই আমরা এই বাঁধ নিয়ে শঙ্কিত থাকি। তারা সরকারের কাছে তাদের উৎপাদিত ফসল রক্ষায় এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানায়।

পোতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী বলেন, এরকম দুর্বলভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। এই বাঁধের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ বাংলাদেশের দুগ্ধ চাহিদার ৭০ শতাংশই পুরণ করা হচ্ছে শাহজাদপুর থেকে। দুধের উৎস গাভীগুলো ধান কাটা শেষে এই বাধ নিয়ন্ত্রিত গো চারন ভূমিতেই অবস্থান করে। ধান কাটার পর লাখ লাখ গাভী এই জমিতে অবস্থিত বাথানে থেকে ঘাস খায়।

তিনি আরো জানান, লাখ লাখ হেক্টর কৃষি জমির ধান ও হাজারো গো খামারির জীবিকা নির্ভর করে এই অঞ্চলের উপর। সরকারের কাছে তিনি এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ ও শতাধিক দরজা বিশিষ্ট সুইচ গেট সেই সাথে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় এখানে একটা পাম্প হাউজ নির্মাণের জোর দাবি জানান।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, রাউতরা থেকে নিমাইচরা পর্যন্ত এই বাঁধটি এই অঞ্চলের কৃষি ও দুগ্ধ উৎপাদনে বড় ভূমিকা পালন করে। এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ জরুরি।

তিনি আরো বলেন, আমরাও চাই এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ হোক। জেলা প্রশাসক ডা. ফারুক আহমেদ নিজেও এই জায়গায় একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গতবছরের জুন মাসে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ডা. ফারুক আহমেদ বাঁধটি পরিদর্শন করেন এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে তিনি সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছিলেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন