• আজ শুক্রবার, ২২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৬ আগস্ট, ২০২১ ৷

ঘর পেয়ে কাঁদলেন বীরাঙ্গনা শিলা, অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রীও

house
❏ রবিবার, জুন ২০, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- খোলা আকাশের নিচে যার দিন কাটতো সেই বৃদ্ধা বীরাঙ্গনা শিলা গুহ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর পেয়ে আনন্দ অশ্রুতে ভাসছেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পেয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীকে সাতকড়া রান্না করে খাওয়াতে চাইলেন তিনি। ঘর পাওয়া এই বৃদ্ধার আনন্দ অশ্রুতে আবেগ আপ্লুত হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

রোববার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ৫৩ হাজার ৩৪০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমির মালিকানাসহ ঘর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় প্রান্ত থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কর্মকর্তারা, কুড়িগ্রামের সদর, শেরপুরের ঝিনাইগাতি, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সারাদেশের ৪৫৯টি উপজেলা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩০০টি পরিবারের ১ হাজার ৫০০ মানুষ ও ৬০০ শিশু এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী।

বক্তব্যের শুরুতেই বিনা মূল্যের ঘর পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অশীতিপর শীলা গুহ। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি ঘর পেয়ে খুবই খুশি। আগে ছিলাম রাস্তার ভিখারি, এখন হলাম লাখপতি।

‘শুধু বঙ্গবন্ধুর কন্যার জন্যই আমি এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি। তাই ভগবান তাকে দীর্ঘজীবি করুক। আর কামনা করি বঙ্গবন্ধুর আত্মা যেন শান্তি পায়। তারা যেন স্বর্গ থেকে দেখতে পায় আমরা সুখী হয়েছি।’

বীরাঙ্গনা শীলা জানান, প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মঙ্গল কামনায় সন্ধ্যাবাতি জ্বালেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি এখনও আপনার জন্য প্রতিদিন দু’টাকা দামের একটি করে বাতি জ্বালাই। কারণ আমার বোন যেন সুখী থাকে। বোনের যেন কোনো অমঙ্গল না আসে। আমার বোন যাতে হাজার বছর বাঁচে সে কামনা করি।’

‘আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ভাবতে পারিনি যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেষ বয়সে আমাকে দেখে রাখবেন। তাই আমি ভীষণ খুশি হয়েছি তার ওপর।’

হঠাৎ বঙ্গবন্ধুকন্যার কাছে একটি দাবি করে বসেন শীলা। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমার একটি দাবি। আমাকে আপনি যে ঘর দিয়েছেন সে ঘরে একটি বারের জন্য আসবেন। আমি আপনাকে সাতকড়া দিয়ে তরকারি রান্না করে খাওয়াব।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বোন, আমি যদি সুযোগ পাই নিশ্চয় আসার চেষ্টা করব।’

প্রধানমন্ত্রীর এ আশ্বাস শুনে চোখের পানি যেন থামছিল না শীলার। তার কান্না দেখে প্রধানমন্ত্রীর গলাও ধরে আসে।

কাঁপা কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের যে অবদান, আপনাদের যে আত্মত্যাগ, এর মধ্য দিয়েই তো আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। কাজেই আত্মত্যাগ কিন্তু কখনো বৃথা যায় না। হয়তো অনেক বছর আমরা আসতে পারিনি। কিন্তু এখন আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন