• আজ মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩ আগস্ট, ২০২১ ৷

ভারত টিকা দেয়নি, তাই এবার ইলিশ দিচ্ছে না বাংলাদেশ: আনন্দবাজার

ilish
❏ মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বর্ষায় এ বার আর পাত ভরে ইলিশ খাওয়া হবে না পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির। ইলিশ মিললেও, পাওয়া যাবে না বাংলাদেশের ইলিশ। বাংলাদেশ এবার রীতি মেনে ইলিশ পাঠাচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গে। ভারতীয় কূটনীতিকদের ধারণা, বাংলাদেশকে টিকা পাঠানো হয়নি বলেই ইলিশ আসছে না। এ পার বাংলার বাঙালির পেট থেকে জাতীয় কূটনীতি– সর্বত্রই যা রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।

নিয়ম মতো বহুদিনই ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু নিয়মের ব্যত্যয়ও হয়েছে রীতি মেনে। ২০২০ সালেও জামাই ষষ্ঠীর মরসুমে পশ্চিমবঙ্গের বাজার আলো করেছিল খাঁটি পদ্মার ইলিশ। পশ্চিমবঙ্গে দুই হাজার টন পদ্মার ইলিশ রপ্তানির ছাড়পত্র দিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার।

এর আগেও একই ভাবে বিভিন্ন সময়ে ভারতে পদ্মার ইলিশ পাঠানোর ছাড়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এবছর ব্যতিক্রম ঘটছে। কেন?

স্পষ্ট উত্তর না মিললেও ভারতীয় কূটনীতি মহলের অভিমত, ভ্যাকসিন না পাঠানোর জন্যই বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এতটাই আড়ষ্ট হয়ে পড়েছে যে ইলিশ কূটনীতির আবহই নষ্ট হয়ে গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিতে বিদ্যমান ‘ভারত-বাংলাদেশ সোনালি অধ্যায়’ এই মুহূর্তে যথেষ্ট ফিকে হয়ে গেছে। প্রায় ১৬ লাখ বাংলাদেশি ভারতের পাঠানো করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে বসে আছেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আর এক ডোজ টিকাও পাঠানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ভারত। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা। যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ ইস্যুতে।

প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওঠাপড়ায় ইলিশ এক কূটনৈতিক প্রতীকও বটে। এর আগে স্থলসীমান্ত চুক্তি সই করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ঢাকায় গিয়েছিলেন, ইলিশ নিয়ে কিছুটা রসিকতার ঢংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। ভোজের তালিকায় ইলিশের পঞ্চপদ দেখে মমতা হাসিনাকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন তাঁরা ইলিশ আটকে রেখেছেন? হাসিনার জবাব ছিল, “তিস্তার পানি এলেই মাছ সাঁতার কেটে চলে যাবে ও পারে!”

তিস্তা চুক্তি রূপায়ণ নিয়ে সেই আবেগ আপাতত সংযত রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সে দেশের রাজনৈতিক সূত্রের মতে, গত এক বছরে পর পর এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মেজাজকে সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে হাসিনা সরকারের পক্ষে। ঘরোয়া ভাবে স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে, ইচ্ছা না-থাকলেও চীনকে প্রতিষেধক ক্ষেত্র খুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে ঢাকা। ইতিমধ্যেই বেজিং-এর উপহার হিসাবে প্রায় ১১ লক্ষ ডোজ় চিনা প্রতিষেধক ঢাকায় পৌঁছে গিয়েছে। আরও ৩০ লক্ষ ডোজের দাম দেওয়া হয়ে গিয়েছে। সেটাও পৌঁছবে শীঘ্রই।

বাংলাদেশ সূত্রের দাবি, টিকার বিষয়টি নিয়ে মার্চের ঢাকা সফরেও প্রধানমন্ত্রী মোদী কথা দিয়েছিলেন সে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে। কিন্তু ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে টিকা রফতানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সাউথ ব্লক।

বাংলাদেশের বক্তব্য, টিকার ব্যাপারে ভারতের কাছ থেকে এতটাই আশ্বাস পাওয়া গিয়েছিল, তখন আগ্রহী চীনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এখন তাদের কাছে হাত পাতায় যথেষ্ট দর কষাকষির জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে চীন।

সূত্রের খবর, গত বছর অগস্টে চীনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে টিকাকরণের প্রাথমিক আলাপ আলোচনা শুরু করেছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ঠিক তখনই ঢাকা যান বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। প্রতিষেধক-কূটনীতিকে তখন চরম গুরুত্ব দিয়েছে মোদী সরকার। তখন চীনা দলকে ফিরে যেতে দেখা যায় বাংলাদেশ থেকে।

সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে পণ্য পাঠানোর জন্য চট্টগ্রাম বন্দর এবং বিমানবন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ভারতীয় পণ্যের যাত্রাপথের বড় অংশে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভূমিকা থাকছে।

ঢাকার রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, ভারত নিয়ে সে দেশের মানুষের মন যদি বিগড়ে থাকে, তা হলে এই সংযোগ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শুধুমাত্র বকেয়া প্রতিষেধক না-দিতে পারার বিষয়টিই নয়, বাংলাদেশের আবেগকে আঘাত করা হয়েছে বলে কখনও ঘরোয়াভাবে, কখনও প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছে ঢাকা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন