• আজ মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩ আগস্ট, ২০২১ ৷

নওমুসলিম ওমর ফারুক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন-সংবাদ সম্মেলন, ৬ দফা দাবি

michil
❏ বুধবার, জুন ২৩, ২০২১ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

এস.কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন, লামা প্রতিনিধি- বান্দরবানের রােয়াংছড়িতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে মসজিদের ঈমাম নওমুসলিম ওমর ফারুক হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দায়ী করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে লামা উপজাতী মুসলিম কল্যাণ সংস্থা ও নাগরিক পরিষদ, লামা।

মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে লামা প্রেসক্লাব সম্মুখে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লামা উপজাতী মুসলিম কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মোঃ রাসেদুল ইসলাম ত্রিপুরার সভাপতিত্বে প্রধান অথিতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্রগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি কাজী মুজিবুর রহমান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্রগ্রাম চট্রগ্রাম নাগরিক পরিষদের সহ- সভাপতি এম রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক- নাছির উদ্দিন ও লামা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান প্রমূখ।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা ৬ দফা দাবি জানিয়ে অবিলম্বে মসজিদের ঈমাম নওমুসলিম ওমর ফারুক এর হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় না আনলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্তি সৃষ্টিকারী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী, দেশের সংবিধান ও আইন কানুন অমান্যকারী জেএসএস তথা পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা গত ১৮ জুন রােজ শুক্রবার এশার নামাজ শেষ করে ফেরার পথে উপজাতী সন্ত্রাসী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্ত্রাসী স্বশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর ব্রাশ ফায়ারে মােহাম্মদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে হত্যা করেন।

এতে আমরা উপজাতীয় মুসলিম কল্যাণ সংস্থার সকল সদস্য, নেতৃবৃন্দ মর্মাহত ও শােকাহত। আমার উক্ত হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে উক্ত হত্যাকান্ডে নিহত মােহাম্মদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার পরিবার যেন ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় সেই জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমীপে বিনীত আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে ৬টি দাবি ঘোষণা করা হয়। দাবি সমূহ যথাক্রমে- ১। পাহাড়ী সন্ত্রাসী সংগঠন সমূহ নিষিদ্ধ ঘােষনা করে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যেন আর নিরীহ মানুষ হত্যার শিকার না হয় সেই জন্য সন্ত্রাসী দমন ও তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা।

২। নিহত শহীদ মােহাম্মদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা হত্যাকান্ডসহ সকল হত্যাকান্ড মহামান্য হাইকোর্টে বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকাশ এবং বিচার নিশ্চিত করা।

৩। নিহত শহীদ মােহাম্মদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ সহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

৪। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতায়ন ও দূর্গম এলাকায় সেনা, বিজিবি ও পুলিশ ক্যাম্প বৃদ্ধি করা।

৫। যে সমস্ত উপজাতি ভাই বােনেরা শান্তির ধর্ম ইসলাম ধর্ম, মহান পবিত্র ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে নব মুসলিমদের সার্বিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানােন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা। ও

৬। রােয়াংছড়ি উপজেলায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত শহীদ মােহাম্মদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখি করা।

এছাড়া বক্তব্যে আরো জানিয়েছেন, আমরা উপজাতি মুসলিম সম্প্রদায় খুবই অসহায় ও অনুন্নত অবস্থায় দাদ্রিতার সাথে বসবাস করছি। আমরা সর্বক্ষেত্রে অবহেলিত ও বঞ্চিত। বিশ্বনবী ও শান্তির অগ্রদূত হযরত মােহাম্মদ (সঃ) এর আদর্শ নীতিকে এবং পবিত্র আল কোরআনকে ভালােবেসে, বুকে ধারণ করে বেঁচে আছি। আমরা সকল মুসলিম ভাইবােনদের ও সরকারের কাছে আন্তরিক সহযােগিতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

এদিকে প্রধান অতিথি কাজী মুজিবুর রহমান বলেন, বান্দরবানের রােয়াংছড়ির তুলাছড়ি পাড়ার জামে মসজিদের ঈমাম নওমুসলিম ওমর ফারুক এর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় না আনলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

উল্লেখ, গত শুক্রবার (১৮ জুন) বান্দরবানের রােয়াংছড়ির তুলাছড়ি পাড়ায় রাতে নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা তাকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পূর্বে তার নাম ছিল পূর্ণচন্দ্র ত্রিপুরা। তিনি ইতিপূর্বে খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই সূত্র ধরে গত ১৮ জুন শুক্রবার তাকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন