• আজ মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩ আগস্ট, ২০২১ ৷

করোনায় সবচেয়ে বোধহয় বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি আমি: প্রধানমন্ত্রী


❏ বুধবার, জুন ২৩, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক:মহামারীতে রুপ নেয়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে নিজেকে অন্য যে কারো চেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বুধবার বিকেলে আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন সরকার প্রধান।

এ সময় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস আমাদের সকলের জীবনটাকে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছে এবং সবচেয়ে বোধহয় বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি আমি।

‘করোনার কারণে আমি না পারি আওয়ামী লীগের কারো সাথে না পারি আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাৎ করতে। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছিলাম বলে আপনাদের সাথে বসি। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার সুযোগ পাই বা রাষ্ট্রের কর্মসূচি পালন করার সুযোগ পাই।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারী ও দলীয় সব কাজ ভিডিও কনফারেন্স ও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করেই সারছেন তিনি।

এর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি আয়োজনে যোগ দিতে তার সরকারি বাসভবন গণভবনের বাহিরে এসেছিলেন শেখ হাসিনা।

সে কর্মসূচিগুলোও পালন করা হয়েছে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাস আমাদের যথেষ্ট কষ্ট দিচ্ছে। সারা বিশ্বব্যাপী এটা একটা বিরাট সমস্যা। তারপরেও আমরা আমাদের অর্থনৈতিক কর্মসূচির গতিটা সব সময় ঠিক রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

‘যদিও এতে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। যে লক্ষ্য ছিল সেটা হয়তো পূরণ করতে পারিনি। তারপরেও আমি বলব দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে এবং থাকবে।

করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘করোনা যখনই দেখা দিয়েছে আমরা টিকার জন্য তখন যেটা গবেষণা পর্যায়ে ছিল প্রতিটি জায়গায় আমরা যোগাযোগ করেছি, কোথায় পাওয়া যায়। পৃথিবীর অনেক দেশ এখনও ভ্যাকসিন দিতে পারেনি। আমরা কিন্তু ভ্যাকসিন নিয়ে এসে দেয়া শুরু করেছি।

‘ভারতে যখন করোনা মহামারি আকারে ব্যাপকভাবে শুরু হলো তখন তারা (টিকা) রপ্তানি বন্ধ করে দেয়াতে আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। পরবর্তীতে আমরা এখন আবার ভ্যাকসিন কিনতে শুরু করেছি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে যেন ভ্যাকসিন পৌঁছে যায় তার ব্যবস্থা আমরা পর্যায়ক্রমে নিচ্ছি।’

বাংলাদেশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকা শুরু করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আসা টিকা দিয়ে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এই টিকা কেনার চুক্তি হয়েছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ।

তবে টিকা রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ৭০ লাখ দেয়ার পর সিরাম আর টিকা দিতে পারেনি। এ অবস্থায় অন্য দেশ থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। টিকার অভাবে এক পর্যায়ে গণটিকা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হয়।

অবশ্য পরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে উপহার হিসেবে কিছু টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। তা দিয়েই সীমিত আকারে টিকা কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে।

করোনা টিকা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তাদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার খুব দুঃখ লাগে, যাদের আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগেভাগে ভ্যাকসিন দিয়েছি। তারা দু্ই ডোজ নেয়ার পর এখন সমালোচনা করেন।

‘অথচ তারাই কিন্তু সবার আগে নিয়েছেন। তারাই সমালোচনা করেন। সেটাই অবাক লাগে। যখন নিয়েছেন তখন তো এ কথা বলেননি। এখন আবার সমালোচনা কেন?’

সরকার প্রধান বলেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি তো বুঝতে হবে। যে ভ্যাকসিন আমরা চার ডলারে কিনেছি এখন তা ১৫ ডলারে কিনতে হচ্ছে। সামনে হয়তো আরে বেশি দামে কিনতে হবে। আমরা তো আগেই টাকা দিয়ে সব করে রেখেছিলাম। কিন্তু এটা আন্তর্জাতিক বিষয়।’

ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশে ভ্যাকসিন তৈরি করা যায় এ জন্য ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ভ্যাকসিন বিষয়ে বাংলাদেশে যেন গবেষণা হয়, আমরা যেন নিজেরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারি তার জন্য আমাদের ফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি করা দরকার। আমরা কীভাবে এখানে ভ্যাকসিন তৈরি করব তার জন্য এখানে ইন্সটিটিউট তৈরি করব।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন