• আজ রবিবার, ১৭ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ১ আগস্ট, ২০২১ ৷

বাবার ভয়ানক পরিকল্পনায় গলাকাটা লাশ হতে হয় ২৮ বছরের যুবক সন্তানকে!

গলাকাটা লাশ
❏ শুক্রবার, জুন ২৫, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি- মাদকাসক্ত সন্তানকে দিনের পর দিন নানা চেষ্টাতেও শোধরাতে পারেননি পরিবার । অবশেষে ‘অতিষ্ঠ’ হয়ে আইনের আশ্রয় না নিয়ে ভয়ানক সিদ্ধান্ত নিলেন বাবা! ভাড়াটে খুনি দিয়ে নিজের সন্তানকেই নৃশংস খুন করালেন এক পিতা।

শুধু তাই নয়, নিজের মাদকাসক্ত সন্তানকে খুন করেই ক্ষান্ত হননি তিনি ! সন্তান হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে নিজের স্বার্থ উদ্ধারে দীর্ঘদিনের বিবাদ থাকা  প্রতিবেশিদের ঘায়েল করতে  সেই হত্যার দায় চাপানোর চেষ্টাও চালান প্রতিবেশিদের উপরে।

এর আগে গত ২২ মে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের হাওর থেকে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লে ঘটনা তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ এই ঘটনায় সম্পৃক্ত নিহতের বাবা, দুই ভাড়াটে খুনিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে।

পেশাদার খুনি ভাড়া করে ২০ হাজার টাকায় জাহাঙ্গীরকে তার নিজের বাবাই খুন করান, পুলিশের কাছে প্রাথমিক জবানবন্দীতে এমনটাই স্বিকার করেছেন আটককৃতরা।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের চাঁনপুর রজনীলাইন গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে সেকান্দর আলী ওরফে সেকান্দর ডাকাত, মাহারাম দক্ষিণপাড়ার মৃত নবী হোসেনের ছেলে সুরুজ মিয়া ও মাহারাম উত্তরপাড়ার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে বাবা মোহাম্মদ আলী।

বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পিপিএম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী ও অন্য আসামিদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলেছে, জাহাঙ্গীর আলম মাদকাসক্ত ছিলেন। টাকাপয়সার জন্য তিনি পরিবারের লোকজনকে নানাভাবে নির্যাতন করতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে মোহাম্মদ আলী ছেলেকে খুন করাতে ২০ হাজার টাকায় পেশাদার খুনিদের সঙ্গে চুক্তি করেন। গত ২১ মে রাতে ভাড়াটে লোকেরা জাহাঙ্গীর আলমকে ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। জাহাঙ্গীরকে হত্যার পর তাঁর বাবাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুনিরা।

এ ঘটনার পর মামলা অন্যখাতে প্রবাহীত করতে নিহতের পিতা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে ছেলে হত্যার ঘটনায় নিজের গ্রামের তিন প্রতিবেশীকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাহারাম গ্রামের সুরুজ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে।

সুরুজ মিয়া পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিজে খুনের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন এবং এর সঙ্গে এলাকার চানপুর রজনী লাইন গ্রামের সেকান্দার আলী (৫৫) নামের আরেকজন জড়িত বলে জানান। পরে পুলিশ গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের কড়ইতলা থেকে সেকান্দার আলীকে ২২ জুন গ্রেপ্তার করে। দুজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে মোহাম্মদ আলী তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে খুনের জন্য তাঁদের সঙ্গে ২০ হাজার টাকায় চুক্তি করেছিলেন বলে জানান।

সেকান্দার আলী এর আগে ১৯৯৬ সালে তাহিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন। পরে তিনি আপিলে ২০১২ সালে কারাগার থেকে ছাড়া পান।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ তরফদার বলেন, ছেলে হত্যা মামলায় গত বুধবার রাতে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী, সুরুজ মিয়া ও সেকান্দার আলীকে আসামি করে তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ গোলাম হক্কানী বাদী হয়ে অপর একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান (এসপি) বলেন, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আলমকে খুনের সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পৃক্ততার বিষয়টি ওঠে আসে। বাবা ছেলেকে খুন করাতে ২০ হাজার টাকায় একজন পেশাদার খুনিসহ দুজনকে ভাড়া করেন। যেহেতু মোহাম্মদ আলী খুনের সঙ্গে জড়িত, তাই তিনিও হত্যা মামলার আসামি।

প্রসঙ্গত ২২ মে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের হাওর থেকে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ যুবকই মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আগের দিন রাতে খুনিচক্র মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করে জাহাঙ্গীরকে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ২২ মে মামলা করেন।

পুলিশ এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা খুজে পায়নি পুলিশ ।

তদন্ত কর্মকর্তা বাদীর বন্ধু সুরুজকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সুরুজ স্বীকার করে মাদকাসক্ত জাহাঙ্গীরকে সরিয়ে দিতে বাবা মোহাম্মদ আলী ২০ হাজার টাকায় খুনের মৌখিক চুক্তি করার পর তারা মিশন বাস্তবায়নে মাঠে নামে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন