• আজ মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩ আগস্ট, ২০২১ ৷

আবারো লকডাউন হলে ‘আমরা তো না খেয়ে মরব’!

news photos
❏ শনিবার, জুন ২৬, ২০২১ ঢাকা

মাসুম পারভেজ, কেরানীগঞ্জ- দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশে কঠোর লকডাউন সিদ্ধান্ত ‍নিয়েছে সরকার, তাতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা।

বিভিন্ন পেশার সংশ্লিষ্টরা ‘কঠোর লকডাউনে’ আপত্তি জানিয়ে এতে তাদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির কথাই বলছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১০ দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলি ঢাকা-মাওয়া মূল সড়কে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী বিভিন্ন আকারের পিকআপের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি ছিল। এসব বাহনে চলার পাশাপাশি মানুষ হেঁটেও চলাচল করছে। মানুষের আনাগোনা ছিল তূলনামূলক বেশি। এখানে জীবিকার তাগিদে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাস্তায় বের হয়েছেন বলে তারা জানান।

আবারো লকডাউন হলে ক্ষতির মুখে পড়বে দিনমজুর, শ্রমিক, অটোরিকশা চালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। ঋণের কিস্তি নিয়েও চিন্তিত! নিম্নবিত্ত ও কর্মজীবীরা বলছেন, এভাবে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে আমাদের আয়-রোজগার বন্ধ করে দিলে আমরা তো না খেয়ে মরব। আমাদের কাজকর্ম করার সুযোগ দিতে হবে। এমনই দাবি পরিবহণ ও নৌ শ্রমিকদের। তারা বলছেন, গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় বিগত দিনগুলোতে আমরা কোনো বেতন-ভাতা পায়নি। সরকার থেকেও আমাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এমতাবস্থায় আমাদের জীবনযাপন করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।

অটোরিকশা চালক জুলহাস বলেন, আমি একটি বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণ নিছি। ঋণ নিয়ে রিকশা কিনছি, প্রতিদিন যে টাকা কামাই করি, সেই টাকা দিয়ে পরিবারের ৫ জন সদস্যসহ কিস্তির টাকা দেয়। লকডাউন আবার হলে কিস্তি কি ভাবে পরিশোধ করবো এ নিয়ে চিন্তায় আছি।

লকডাউনের বিষয় সিএনজি চালক আজগর আলী বলেন, লকডাউন দিলে তো আমাদের কিছুই করার থাকবে না। তবে সরকারের উচিত আমাদের মতো দিনমজুরের কথা চিন্তা করে অন্যভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। গাড়ি না চালাতে না পারলে বাড়িতে ছেলে-মেয়ে না খেয়ে থাকবে।

মিনিবাস চালক শরীফ কাজি বলেন, আমার দুটা বাচ্চা। সাথে ঘর ভাড়া। আমি গাড়ি না চালাতে পারলে, না খেয়ে থাকে পরিবার। পেটের দায়ে ভয়ে ভয়ে তবুও গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়।

হালিমা খাতুন নামের এক মহিলা বলেন, আমি খাবারের হোটেলসহ ডেকোরেটরে কাজ কাম করে খাই। কিন্তু এখন লকডাউনে কাজকাম বন্ধ হলে, কী করে যে চলবো ভেবে পাচ্ছি না। আমার ছেলেটাও বেকার হয়ে গেছে। সামনে দিন কিভাবে কাটবে ভেবে সারারাত ঘুমাতে পারি না।

ক্ষুদ্র এক ব্যবসায়ী মিহির উদ্দিন জানান, আমরা এখন অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে আছি। লকডাউন চাই না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের যে কর্মচারী আছে তাদের দায় আর কতদিন তারা বহন করবে। না খেয়ে মরার চেয়ে খেটে খেয়ে মরা ভালো। কোথায় গিয়ে শেষ হবে আমরা জানি না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র পুঁজির ব্যবসায়ীদের বেঁচে থাকটাই বড় বিষয়।

এদিকে প্রশাসন বলছে লকডাউনে অসহায় ও দিনমজুরদের জন্য সরকারের দেওয়া ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন