• আজ সোমবার, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২ আগস্ট, ২০২১ ৷

ফরিদপুরের সালথায় পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

Jute t7
❏ শনিবার, জুন ২৬, ২০২১ ঢাকা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: এক সময়ের বিশ্বব্যাপী সমাদৃত সোনালী আঁশ পাটের গৌরবময় অতীত হারিয়ে গেলেও নতুন করে আবার পাটের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক বছর ধরে বাজার মূল্য ভালো পাওয়ায় পাট চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। ফলে ব্যাপক হারে এবছরেও পাট চাষ করেছেন তাঁরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের মাঠে মাঠে চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। সবুজ পাতার সাথে দোল খাচ্ছে মাঠের পর মাঠ কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের চেয়ে পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো দামের স্বপ্ন দেখছেন এ এলাকার প্রান্তিক চাষিরা।

উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রামের পাট চাষি ও সংবাদকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, পাট অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। আশা করছি এ বছরও পাটের ভালো দাম পাবো।

একই ইউনিয়নের কৃষক মান্নান মাতুব্বর বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবছর তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। তবে আশা করছি এবার পাটের ফলন ভালোই হবে।

একই ইউনিয়নের কৃষক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, সরকারের দেওয়া সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে পাট চাষ করেছি। পাটের বাম্পার ফলনও হয়েছে। আশা করছি, পাটের ন্যায্য মূল্য পাবো।

উপজেলার বারখারদিয়া গ্রামের পাট চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভরা মৌসুমে পাটের বাজার মূল্য কম থাকে। এসময় ব্যবসায়ীরা কম দামে কিনে মজুত করে পরবর্তী সময়ে বেশি দামে বিক্রি করায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয় আমাদের মতো পাট চাষিদের।

সালথা উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, এ বছর সালথা উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ১২ হাজার ১০০ হেক্ট্রর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৫০০ জন চাষিকে উন্নতপ্রযু‌ক্তি নির্ভর পাট ও পাট বীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিজেআরআই ৮ পাট বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে।

তি‌নি ব‌লেন, বিজেআরআই-৮ পাট গাছ পা‌নির নি‌চে ১৫ দিন থাক‌লেও পা‌টের আঁশে কোন প্রভাব পড়‌বে না। ‌তি‌নি ১২০ দিন প‌রে পাট কাটার জন্য কৃষক‌দের অনু‌রোধ ক‌রেন। ১২০ দিন প‌রে পাট কাট‌লে ভাল ফলন পাওয়া যা‌বে ব‌লে আশা প্রকাশ ক‌রেন।

তিনি আরোও জানায়, কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে সার বীজ বিতরণসহ নানাবিধ সহযোগিতা করা হয়েছে। তাইতো চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষক যাতে ন্যায্য মূল্য পায়, সে ব্যাপারে সরকারের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। আশা করি, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত স্বপ্নের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন