• আজ শুক্রবার, ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ জুলাই, ২০২১ ৷

বিয়ের পরদিনই চেয়ারম্যানকে তালাক দিলেন সেই কিশোরী নববধূ

patuakhali-chairman--
❏ রবিবার, জুন ২৭, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ, বরিশাল

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি: অষ্টম শ্রেণির সেই নাছিমন আক্তার নামের শিক্ষার্থী (১৪) বিয়ের পরদিনই তাঁর স্বামী চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে তালাক দিয়েছেন। শনিবার (২৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় কাজি মো. আবু সাদেককে ডেকে চেয়ারম্যানকে তালাক দিয়ে পরিবারের কাছে ফেরে নাছিমন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ছাত্রী নাছিমন আক্তারের বাবা নজরুল ইসলাম।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়নপাশা গ্রামের সুলতান হাওলাদারে ছেলে রমজান হাওলাদারের সঙ্গে একই ইনিয়নের চুনারপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে কনকদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নছিমন বেগমের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে তাঁরা প্রেমের টানে ঘর ছাড়ে। এ সম্পর্ক কোনভাবেই মেনে নিতে না পাড়ায় নছিমনের বাবা নজরুল ইসলাম যুবক রমজানের বিরুদ্ধে যৌ/ন হয়রানীর অভিযোগ এনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের কাছে নালিশ করেন।

চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার শুক্রবার এ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে সালিস বৈঠকে ডাকেন। বৈঠকে নছিমনকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নছিমনের বিয়ের প্রস্তাব দিলে রাজী হয়ে যান বাবা নজরুল ইসলাম। পরে বাদজুমা কনকদিয়ার আয়লা বাজার এলাকায় চেয়ারম্যানের নিজ বাস ভবনে কাজী ডেকে ৫ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

সালিসে এমন বিচার পেয়ে ছাত্রীর সঙ্গে পালানো যুবক নজরূল ইসলাম (১৯) আত্মহত্যার চেষ্টা করে শুক্রবার রাতে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।

ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছন। তাঁর প্রথম স্ত্রী আছেন। সেই সংসারে তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে বিবাহিত।

১৪ বছরের শিক্ষার্থীকে ৬০ বছরের একজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিয়ে করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ও এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিক্ষার্থী নাছিমন আক্তার বলেন, চেয়ারম্যানরে কাছে গিয়েছিলাম পছন্দের মানুষটিকে বিয়ে করতে কিন্তু বিয়ে করতে হয়েছে চেয়ারম্যানকে। আমি এক রাত চেয়ারম্যানের বাসায় থাকলেও কোন ভাবেই তাকে আমি স্বামী হিসেবে মেনে নেয়নি। চেয়ারম্যান বুঝতে পেরে তালাক দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বলেন, কোনভাবেই মেয়েটির বাবা ওই ছেলেটির কাছে দিতে রাজি ছিল না। তাই কাজি ডেকে বিয়ে করেছিলাম। যেহেতু মেয়েটি ভালোভাবে বিয়েটি নেয়নি তাই যিনি বিয়ে পড়িয়েছিলেন সেই কাজী ডেকেই শনিবার সন্ধ্যার দিকে মেয়েটি আমাকে তালাক দিয়েছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন