🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জুলাই, ২০২১ ৷

মুন্সিগঞ্জে মোবাইলে কার্টুন দেখানোর লোভ দেখিয়ে তিনশিশুকে ধর্ষণ! পলাতক ধর্ষক

rape noyakhali
❏ রবিবার, জুন ২৭, ২০২১ ঢাকা

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বরঃ  ‘মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখানোর লোভ দেখিয়ে’ মুন্সীগঞ্জের এক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে গত ১৫ দিনে তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিন শিশুকে ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নয়ন কসাই (৪০)। নয়ন কসাই মাওয়া বাজারে গরু-খাসির মাংস বিক্রেতা। তার বাড়ি ফরিদপুরে।

লৌহজং উপজেলার পদ্মাসেতুর কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্রে এসব ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে, একশিশুকে কার্টুন দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশিত হলে বেরিয়ে আসে একই কৌশলে ৭ বছর ও সাড়ে ৪ বছরের আরও দুই শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ।

গত শুক্রবার দুপুরে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ৬ বছরের শিশুকে নয়ন মোবাইলে ভিডিও দেখানোর কথা বলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে এবং কার্টুন দেখানোর ছলে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাসায় এসে মাকে ঘটনা বললে শিশুটির মা নয়নকে জুতাপিটা করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে পাশের বাড়ির ৭ বছরের এক শিশু ও সাড়ে ৪ বছরের আরেক শিশুও একই কায়দায় নয়নের লালসার শিকার হয়েছে  বলে জানায় তাদের পরিবারকে।

তবে এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি উল্লেখ করে , লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসাইন বলেন, “কেউ এখন অবধি এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। আমি সোর্স মারফত এ ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি কিন্তু অভিযুক্তকে নয়ন কসাই(৪০) পাইনি।”

ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে , এ ঘটনায় মামলা না হলেও, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগম, পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলতাফ শেখ, সাধারণ সম্পাদক দাদন তালুকদারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিসে বসেন।

কিন্তু ঘটনার পর থেকেই ধর্ষক নয়ন কসাই পলাতক রয়েছে। যার ফলে সেদিন রাতে সালিস করা হয়নি। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারকে সালিশকারীরা এসব ঘটনা ফাঁস না করার জন্য বলে আসেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কয়েকজন স্থানীয় সময়ের কণ্ঠস্বরকে  জানান, ‘সালিশকারীদের কারণে’ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ভয়ে মামলা করতে চাইছে না।

শনিবার দুপুরে সরজমিনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা থানায় কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা করতে চান না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, সালিশকারীগণ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে লোভ ও ভয় দেখিয়েছে, যার কারণে তারা কিছু বলতে কিংবা মামলা করতে চাইছে না। স্থানীয়রা ধর্ষক নয়নের উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে, ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের সভাপতি আলতাফ শেখ বলেন, “আমি এ ঘটনা মৌখিকভাবে থানা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।”

অন্যদিকে, ইউপি নারী সদস্য রিনা বেগম বলেন, “আমরা কোনো বিচার করিনি। আমিও ধর্ষকের উপযুক্ত বিচার চাই।”
রিনা বেগম আরও জানান, তিনটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা নয়ন মাওয়া বাজারে গরু-খাসির মাংস বিক্রেতা। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। নয়ন বিবাহিত। তার স্ত্রী, একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। মেয়েটি বিবাহযোগ্যা। স্ত্রী বিউটি পার্লারে কাজ করেন।

তিনি আরও জানান, নয়নের স্ত্রী যখন পার্লারে যায়, তখনই নয়ন মোবাইল ফোনে শিশুদের কার্টুন দেখানোর লোভ দেখিয়ে নিজের ঘরে ডেকে এনে ধর্ষণ করেন।

পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা নাসির খান বলেন, এ পুনর্বাসন কেন্দ্রে সম্প্রতি অপরাধ বেড়ে গেছে। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে। গত দুই বছরে এরকম ৫/৬টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

এর আগে, গত শুক্রবার দুপুরে ৬ বছর বয়সী প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে মোবাইলে ভিডিও দেখানোর কথা বলে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা উঠে। শিশুটি বাড়ি গিয়ে মাকে ঘটনা বলে। এ ঘটনা জানাজানির পর এলাকার সাত বছর এবং সাড়ে ৪ বছর বয়সী আরও দুই শিশুও ধর্ষণের শিকার হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন