• আজ বৃহস্পতিবার, ২১ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৫ আগস্ট, ২০২১ ৷

শেরপুরে শিক্ষক ভাতিজার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধ চাচার


❏ সোমবার, জুন ২৮, ২০২১ দেশের খবর, রাজশাহী

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশি এক শিক্ষক ভাতিজার ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন শফিউদ্দিন (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ ।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারনে শ্রীবরদী থানার এসআই সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে শেরপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। মৃত শফিউদ্দিন হাসধরা আকন্দ বাড়ির মৃত শাহাব উদ্দিনের ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ জুন শনিবার দুপুরে উপজেলা হাসধরা গ্রামে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক ভাতিজা কামরুজ্জামান বিদ্যুত (৪২) কে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত বিদ্যুত একই গ্রামের মৃত বদর উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় হাসধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। নিহত শফিউদ্দিন ও বিদ্যুত সর্ম্পকে চাচা ভাতিজা।

এ ঘটনায় শফিউদ্দিনের বৃদ্ধ স্ত্রী মারিয়া আক্তার (৬৫) বাদী হয়ে কামরুজ্জামান বিদ্যুত সহ এজাহার নামীয় আটজন ও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামী করে শনিবার গভীর রাতে একই উদ্দেশ্যে খুন করার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করেছে। শেরপুর জেলা পুলিশের নালিতাবাড়ি সার্কেলের এএসপি আফরোজা নাজনীন ও শ্রীবরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান রোববার দুপুরে বলেন, হাসধরা গ্রামে দারুল উলুম মফিজ উদ্দিন নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং মসজিদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল বিদ্যুত ও শফিউদ্দিনের মাঝে। শফিউদ্দিন উক্ত মাদ্রাসা ও মসজিদের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। বিদ্যুতের জমির পাশে কলিমউদ্দিন নামের এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কন্সটেবলের জমি রয়েছে।

শনিবার দুপুরে কলিমউদ্দিন তার জমিতে ঘর তুলতে গেলে বিদ্যুত লোকজন নিয়ে বাধা প্রয়োগ করে। এ সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। হঠাৎ করে পুলিশের উপস্থিতিতে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে বৃদ্ধ শফিউদ্দিন। পরবর্তীতে তিনি মারা যান।

ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় বিদ্যুতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মারিয়া আক্তারের দায়েরকৃত মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে রোববার বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে বিদ্যুতকে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিহত শফিউদ্দিনের লাশ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ রোববার তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঐ হাফেজিয়া মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মুসলিম মিয়া বলেন, বিদ্যুত এর আগেও মাদ্রাসা হামলা করে দরজা জানালার ক্ষতি করেছেন। কয়েকবার শফিউদ্দিনকে মারার জন্য হামলা করেছেন। স্থানীয় লোকজনের বাধার কারনে মারতে পারে নাই। ঐ সময় বিদ্যুত তাকে কিল ঘুষি মারেন । এতে মাটিতে পড়ে তিনি মারা যান।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গ্রেফতারকৃত বিদ্যুত দীর্ঘদিন থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে বিভিন্ন কারনে দ্বন্ধ করে আসছিল। সম্প্রতি তার চাচা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কলিম উদ্দিন ও মাদ্রাসার সভাপতি শফিউদ্দিনের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ করে আসছে। এদিকে শফিউদ্দিনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রানীশিমূল ইউনিয়ন জুড়ে। স্থানীয় হাসধরা গ্রামবাসী বিদ্যুতের বিচারের দাবী জানিয়েছেন।

শ্রীবরদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারি শিক্ষা অফিসার ও রানীশিমূল ক্লাস্টারের শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব বলেন, গ্রেফতারকৃত বিদ্যুত বেশ কিছুদিন আগে হাসধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। মূলত তিনি সহকারি শিক্ষক। দেড় বছরের প্রশিক্ষনে বর্তমানে তিনি ডিপিএড প্রশিক্ষনের জন্য শেরপুর পিটিআই এ কর্মরত রয়েছেন। সেখানে অন্য একজন সহকারি শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। আমরা ঘটনাটি শুনেছি। থানায় যোগাযোগ করা হয়েছে। মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য পেলেই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্রীবরদী থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার পরই ঘটনার মূল হোতা বিদ্যুতকে আমরা গ্রেফতার করি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের নিকট রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এজাহারভুক্ত বাকি আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন