🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জুলাই, ২০২১ ৷

জামিন পেলেও কারামুক্ত হচ্ছেন না নাসির-অমি

nasir
❏ মঙ্গলবার, জুন ২৯, ২০২১ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমনির করা মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং তার বন্ধু তুহিন সিদ্দিকী অমির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আপাতত কারামুক্ত হতে পারছেন না তারা।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন।

অন্যদিকে, তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমীদা পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, এদিন বিমানবন্দর থানার মাদক আইনের মামলায় নাসিরের জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী।শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী তার জামিন আবেদন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

এছাড়া, বিমানবন্দর থানায় মাদক, মানবপাচার ও পাসপোর্ট আইনে মামলা থাকায় গ্রেফতার রয়েছেন আসামি অমি। তাই তারা এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।

এর আগে গত ২৩ জুন পরীমনির মামলায় ঢাকার বিচারিক হাকিম আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে মাদক মামলায় গত ১৫ জুন নাসির-অমিকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের বিচারক নিভানা খায়ের জেসি।

গত ১৪ জুন দুপুরে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় বাসায় অভিযানকালে বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৪ জুন দুপুর ১২টার দিকে সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। এতে নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

বাদীর এজাহারে বলা হয়, গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি, অমি ও বনিসহ দুটি গাড়িতে উত্তরার দিকে যান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এজাহারে বলা হয়, ‘পথিমধ্যে অমি বলে বেড়িবাঁধে ঢাকা বোট ক্লাব লিমিটেডে তার ২ মিনিটের কাজ আছে। অমির কথামতো আমরা ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে গাড়ি দাঁড় করাই। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়।

‘তখন অমি ভেতরে যাই এবং অমি অনুরোধ করে এখানের পরিবেশ অনেক সুন্দর; তোমরা নামলে নামতে পারো। ইতোমধ্যেই আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলে আমরা ঢাকা বোট ক্লাবে প্রবেশ করে বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করি। টয়লেট হতে বের হতেই ১ নং বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদেরকে ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ ১ নং আসামি মদ্যপান করার জন্য জোর করেন। আমি মদ্যপান করতে না চাইলে ১ নং আসামি জোর করে আমার মুখের মধ্যে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমার সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই। ১ নং আসামি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন ও আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

‘১ নং আসামি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে রাখা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ১ নং আসামিকে বাধা দিতে চাইলে তাকেও মারধর করে নীলাফোলা জখম করে। আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিতে গেলে আমার ব্যবহৃত ফোনটি টান মেরে ফেলে দেয়।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন