• আজ বুধবার, ১৩ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জুলাই, ২০২১ ৷

শেরপুরে প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢলে বন্যা: পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ

jhinaigati
❏ বুধবার, জুন ৩০, ২০২১ ময়মনসিংহ

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: তিন দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের বন্যায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার দুটি পাহাড়ি নদী চেল্লাখালী ও ভোগাই উপচে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে নালিতাবাড়ী শহর ও বিভিন্ন অঞ্চলে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। ভেসে গেছে আমন ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের। ফলে চরম জনদূর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে টানা ভারি বর্ষণ। সেইসাথে ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী দুটিতে নেমেছে পাহাড়ি ঢল। ভারি বর্ষণের ফলে বুধবার ভোররাত থেকেই নালিতাবাড়ী শহরের বেশকিছু এলাকা ও উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী দুটির বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ উপচে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার দুপুরের দিকে বালুঘাটা ও গোল্লারপাড় এলাকায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজিরখামার সড়ক উপচে চেল্লাখালী নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করতে শুরু করে।

একই সময়ে ভোগাই নদীর পানিও বিপদ সীমা অতিক্রম করে বাঁধ উপচে শহরের মধ্যবাজার, জেলখানা রোড, উত্তর গড়কান্দা, নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের নিচপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বেগে প্রবেশ করতে শুরু করে। নালিতাবাড়ী-ঘাকপাড়া সড়ক, নালিতাবাড়ী-কাকরকান্দি সড়ক এবং শহরের মধ্যবাজার এলাকায় পাকা রাস্তা অতিক্রম করে পানি ঢুকছে বিভিন্ন মহল্লা ও বাসা-বাড়িতে।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে তীব্র ভাবে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেকের ঘরে চুলা পর্যন্ত জ্বলছে না। কোন কোন স্থানে তলিয়ে গেছে খাবার পানির উৎস। বুধবার দিনের মধ্যে বৃষ্টি না কমলে এবং পাহাড়ি ঢল নিয়ন্ত্রণে না এলে গোটা উপজেলার মানুষ ভোগান্তির শিকার হবে।

এদিকে টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মহারসী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ জুন) সকাল থেকে পানি প্রবেশ শুরু করে। পানি উঠেছে ঝিনাইগাতী সদর বাজারেও। ডুবে গেছে কাঁচা-পাকা সড়ক ও অর্ধশতাধিক মাছের ঘের।

স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টিতে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে মহারসী নদীর পানির তোড়ে দিঘিরপাড় অংশের শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে নিম্নাঞ্চলে নদী পানির প্রবেশ করে।

এরইমধ্যে ভাঙা বাঁধ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ। তিনি বলেন, ‘ভোরের দিকে পানি প্রবেশ শুরু করেছে। দেড় দুই ঘণ্টা বৃষ্টি না হলে এই পানি কমতে শুরু করবে। আমরা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন