• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোর্শেদ হত্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ


❏ বুধবার, জুন ৩০, ২০২১ রাজশাহী

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি- কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়ায় মোর্শেদ হত্যা মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলায় নিরীহ লোকদের ফাঁসিয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (৩০) জুন সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন খরুলিয়ার শাহ রিয়াজ মোহাম্মদ ও তাঁর পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহ রিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, বিগত ২৬ জুন বিকাল ৪টার দিকে খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকায় ছলিমের দোকানে কোনার পাড়া এলাকার মোহাম্মদ ফরিদের ছেলে কফিল উদ্দিন ও বাজার পাড়া এলাকার আবু ছৈয়দের (রোহিঙ্গা) ছেলে মোর্শেদ কামালের মধ্যে ইয়াবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ওইসময় এক পর্যায়ে কফিল উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে মোর্শেদকে ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।

যে হত্যাকাণ্ডে এলাবাসীসহ আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। এই ঘটনায় নিহত মোর্শেদ কামালের মা মোস্তফা বেগম বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। যার মামলা নাম্বার ৬৬/২০২১। ওই ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী মিজানুর রহমান ও স্থানীয় দোকানদার মুফিদুল্লাহ, মাননীয় পুলিশ সুপার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাক্ষ্য প্রদান করেন। যার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু ওই হত্যা মামলায় সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বাবা নুরুল হক ও আমার চাচা সৈয়দুল হককে অহেতুক আসামী করা হয়েছে। যা মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা।

লিখিত বক্তব্যে শাহ রিয়াজ মোহাম্মদ আরও বলেন, আমার বাবা নুরুল হক এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা সদস্যদের মধ্যে অন্যতম একজন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে উক্ত বিদ্যালয়ে কর্মচারী হিসেবে সততা ও নিষ্টার সাথে অদ্যবদি কর্মরত আছেন। তাছাড়া আমার চাচা সৈয়দুল হক দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসে ছিলেন। গত বছর লকডাউনের কারণে আর ফিরে যেতে পারেননি। তিনি এবং আমাদের পরিবারের কোন সদস্যই দেশ ও সমাজ বিরোধী কোন কাজে জড়িত নেই।

মূলতঃ নিহত মোর্শেদ কামাল সম্পর্কে আমার ফুফাতো ভাই হয়। অর্থাৎ আমার বাবার চাচাতো বোনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে নিহতের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও তাদের সাথে আমাদের কোনো প্রকার শত্রুতা ছিল না। যার উদাহরণ আমরা একই ভিটায় সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করছি। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তাদের সাথে আমাদের পরিবারের কোন অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। এই হত্যাকান্ডের জেরে এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের ইন্দনে নিহতের পরিবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের জমি দখল, আমার বাবা—চাচা ও আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে মর্যাদাহানী এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিসাধন করার উদ্দেশ্যে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।

শাহ রিয়াজ মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, নিহতের পিতা আবু ছৈয়দ একজন রোহিঙ্গা এবং দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা ব্যাবসার সাথে সম্পৃক্ত। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। যার মামলা নাম্বার ১০৮/২০২০, বাকলিয়া থানা, চট্টগ্রাম।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কোনোভাবেই আমার বাবা ও চাচা জড়িত নন। তাই আপনাদের মাধ্যমে আমি মাননীয় পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসল অপরাধীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হোক। পাশাপাশি সম্পূর্ণ নিরপরাধ আমার বাবা নুরুল হক এবং চাচা সৈয়দুল হককে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহ রিয়াজ মোহাম্মদের মা সাজেদা বেগম, চাচা আমানুল হক আনু ও চাচী জান্নাতুল বকেয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন