🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২১ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৫ আগস্ট, ২০২১ ৷

পরীমনিকে কেন আটক করে জেলে দেয়া হলো না, প্রশ্ন জয়নাল হাজারীর

joynal 5
❏ শনিবার, জুলাই ৩, ২০২১ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি, ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে থানা-পুলিশ হয়েছে এবং এ ঘটনার একাধিক ভিডিও ভাইরালের পর মানুষের মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে নেটদুনিয়ায়। এ নিয়ে এবার মুখ খুললেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীন হাজারী।

তিনি নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে এক লাইভে বলেছেন, ‌’পরীমণি বোট ক্লাবের ঘটনার পর থানায় গিয়েছিলেন মামলা করতে। তবে পরীমণি অসংলগ্ন মাতাল ছিলেন বলে সেই মামলা নেননি থানার ওসি সাহেব। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সে যদি মাতাল হয়- তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে হাসপাতালে নিয়ে ওয়াশ করার নিয়ম। কিন্তু তখন তা কেন করা হলো না।’

ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদের এক বক্তব্যে সাহস পেয়েছেন জানিয়ে হাজারী আরও বলেন, ‌’হারুন সাহেব বলেছেন- মেয়েটা যদি ওখানে না যেত এই অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটতো না। হ্যাঁ, এটাই ঠিক। এখন আমি বলতে পারি এই করোনাকালে একটি যুবতি মেয়ে পরীমণি রাত তিনটা পর্যন্ত সেই বোট ক্লাবে ছিলো, সে সেখানে ভাংচুর চালিয়েছে বলে ক্লাবটি মামলা করেছে। আমি বলি তাকে তখনই কেন আটক করা হলো না যখন সে মাতাল অবস্থায় থানায় গেছে।’

‌’আমি নিজে থেকে একটা কথা বলবো- আমি নিশ্চিত যে, মাতাল হওয়ার আগে সে ইয়াবা সেবন করেছে। ইয়াবা সেবন করে আরও টালমাটাল হয়ে সে ক্লাবে গেছে, প্রায় নাকি সে ক্লাবে যায়ও। আরমান তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুর গেছে, আমরা একই ফ্লাইটে গেলাম এবং আসার সময় একই ফ্লাইটে এলাম। এই আরমানের কোনো ছবি মুক্তি পেয়েছে বলে আমি জানি না। ফেনীতেও তাকে নিয়ে গিয়েছিল’ বলেও ফেসবুক লাইভে উল্লেখ করেন ফেনী-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য।

জয়নাল হাজারী আরও বলেন, একটা কথাতেই সব শেষ হয় যে এই মেয়ে সেখানে গিয়েই অপরাধ করেছে। মেয়েটা যদি না যেত এ ঘটনা হতো না। তাকে যদি ধর্ষণ করা হয়, নির্যাতন করা হয়- তাতো তার দোষেই হয়েছে। সেতো জানে ওই ক্লাবে কি হয়। মদ খাওয়া হয়, জুয়া খেলা হয়। আমি যদি জেনে শুনে বাঘের মুখে পড়ি, বাঘতো আমাকে খাবেই। সাপের গায়ের উপর পা দিলেতো কামড়াবেই। এটাতো জানা কথাই, তাহলে সে কেন গেল। মূলত এটার জন্য আমি তাকে অপরাধী করি।

এর আগে গত ১৩ জুন রাতে ফেসবুক পোস্টে পরীমণি অভিযোগ করেন, ৯ জুন উত্তরার বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালান ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় তিনি সাভার থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর ১৪ জুন রাতে উত্তরায় তুহিন সিদ্দিকী অমির বাসায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় অমির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবা, বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়।

এরপর ১৪ জুন রাত ১২টা ৫ মিনিটে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নাসির, অমিসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় গত ১৫ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি নাসির ও অমির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই ৭ দিনের রিমান্ড শেষে পরীমণির মামলায় তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন