• আজ শনিবার, ১৬ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩১ জুলাই, ২০২১ ৷

২২ মন ওজনের এতিমের ছেলেকে হোসেন বিক্রি করতে চান ১১ লক্ষ টাকা

Gazipur news
❏ শনিবার, জুলাই ৩, ২০২১ ঢাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর:  নামটি তার এতিমের ছেলে। ৩০মাস বয়সী এতিমের ছেলে লম্বায় ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি, উচ্চতায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। ফ্রিজিয়ান জাতের হলেও দেশীয় ভাবে লালন পালন করার কারণে চলনে বলনে সে অনেকটাই দেশীয় জাতের মতো আচরণ করে।  সাদা-কালোয় গায়ের রং এবং মাথায় সিংয়ের ধরণের কারণে এক দেখাতেই সকলের দৃষ্টি কেড়ে নেয় ”এতিমের ছেলে”। এবারের কোরবানীর ঈদে বাজারে নেয়া হবে তাকে।

গাজীপুর মহানগরের ২৩ নাম্বার ওয়ার্ডের হাতিয়াবর পাঠান পাড়া এলাকার বাসিন্দা হোসেন ৬ বছর পূর্বে দুটি গাভী কিনে লালন পালন শুরু করেন। বর্তমানে ৫টি গরু রয়েছে তার গোয়ালে। এর মাঝে দুটি গাভী তিনটি ষাঁড় গরু। মুলত দুধ বিক্রি করে আয় রোজগারের পথ তৈরি করতেই তার গরু লালন পালনের শুরু। বাড়ির চার পাশে প্রাকৃতিক ঘাস এবং চাষ করা ঘাসই তার পালিত গরু গুলোর প্রধান খাবার। এবারের ঈদে হোসেন ‍দুটি ষাঁড় গরু বিক্রি করার ইচ্ছ পোষণ করছেন তার একটি এতিমের ছেলে। যার ওজন আনুমানিক ২২মন। আরেকটি দেশীয় ষাঁড় যার ওজন ৪ মন।

অনেকেই যখন বিভিন্ন পরিচিত নামে গরুর নাম রাখেন তখন তার গুরুর নামটি এতিমের ছেলে কেন রাখা হয়েছে জানতে চাইলে হোসেন জানান, এতিমের মা ছোট বেলাতেই তার মাকে হারিয়েছে। অন্য গাভীর দুধ খাইয়ে তার মাকে বাচাঁতে হয়েছিল। এতিমের ঘরে জন্ম বলেই তার নাম রাখা হয়েছে এতিমের ছেলে। হোসেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ষাঁড়টি তাদের পরিবারেরই একজন।

সবুজ ঘাস এবং দেশীয় খাবারে লালন পালন করা দৃষ্টি কাড়া এতিমের ছেলের প্রসংশায় এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্যমতে ভেজালের এ যুগে নির্ভেজাল খাবার খাইয়ে হোসেন এতিমের ছেলেকে বড় করেছে। তাদের মতে, অনেকেই শুধুমাত্র ঈদকে সামনে নিয়ে গরু কিনে গরু মোটাতাজা করণ পদ্ধতিতে বেশি লাভের আশায় বিভিন্ন ওষধ প্রয়োগ করে গরুর ওজন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি করেন। আর হোসেন ’এতিমের ছেলে’কে ছোট থেকেই দেশীয় গরুর মতোই লালন পালন করে বড় করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঐ এলাকার বাসিন্দা বয়স্ক লেহাজ উদ্দিন জানান, আমাদের চোখের সামনেই হোসেন তার এতিমের ছেলেকে লালন পালন করেছে। বাড়ির আশে পাশের সবুজ ঘাস খাইয়েছেন। তাই অন্য গরুর সাথে তার গরুর তুলনা হবে না।

প্রতিবেশি আনিসুর রহমানের মতে, পরিবারের সদস্যদের মতোই যত্ন করে লালন পালন করতে দেখেছি এই ষাঁড় গরুটিকে। সারাক্ষন পাশে থেকে খেয়াল রেখেছেন। তিনিও ভেজাল ছাড়া খাদ্য খাওয়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন।

কত দামে এতিমের ছেলেকে বিক্রি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে হোসেন বলেন, আমি ১১ লাখ টাকা হলেই বিক্রি করে দিব। কারণ আমি খাবারে যেমন ভেজাল খাওয়াইনি দামেও ভেজাল চাইবো না। এর পিছনে যা খরচ হয়েছে, আর আমাদের পারিশ্রমিকটুকু পেতে চাই। তিনি বলেন, শুরু থেকেই নিয়ত করে লালন পালন করেছি লাখে ১ হাজার টাক মসজিদে দিয়ে পরে এতিমের বিক্রির টাকা সংসারের কাজে লাগাবো। তাই রহমতের মালিক আল্লাহই আজকের দিন পর্যন্ত সুস্থ রেখেছে এতিমের ছেলেকে।

তিনি আরও জানান দালাল ছাড়া সরাসরি তিনি ক্রেতার হাতে তুলে দিতে চান এতিমকে। তাই তিনি অনুরোধ জানান তার মোবাইল(০১৯৯০৫৬৯৭৪৬) নাম্বারটি প্রকাশ করা জন্যে। যেন যে কেউ সরাসরি তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন