• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

‘পেটের ক্ষুধা বোঝে না লকডাউন’, বিপাকে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ

news r5342
❏ শনিবার, জুলাই ৩, ২০২১ রংপুর

অনিল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা- সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে তৃতীয় দিনেও চলছে কড়াকড়িভাবে লকডাউন পালিত হচ্ছে। গরীব-অসহায় মানুষদের পেটের ক্ষুধা বোঝে না লকডাউন! তাই এই কট্টর লকডাউনে এ উপজেলার গরীব-অসহায় শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন।

হোটেল শ্রমিক আজিমুল ইসলাম ও আব্দুল হালিমসহ অনেকেই জানান, লকডাউনে খাবার হোটেল বন্ধ থাকায় আমাদের আয় নাই। কিভাবে চলবে আমাদের সংসার। গত তিনদিন থেকে অনেক কষ্টে ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছি। আমরা সাহায্য সহযোগীতা চাই না, আমাদের কাজ-কর্ম চললেই আমাদের ছোট ছোট সংসারে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবো। এই লকডাউনে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে আছি। জানি না এভাবে আর কত দিন এই লকডাউন থাকবে।

ঘরে খাবার নেই। লকডাউনে সব দোকান-পাট সব বন্ধ। দোকান-পাট বন্ধ থাকায় আমরা দোকানের মালামাল বহন করতে পারছি না। তিনদিন থেকে কোন ভাড়া নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। এভাবে আর কতদিন থাকবে। আমরা চরম বিপাকে আছি।

লকডাউন চলুক আমাদের কোন আপাত্তি নেই। কিন্তু যতদিন লকডাউন চলবে ততদিন আমাদের গরীব-পরিবারগুলোর খাবারসহ বিভিন্ন ধরণের সহযোগীতার দাবী জানান। আমাদের ঘরে খাবার না থাকলে আমরা কি ভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচবো! পেটের ক্ষুধা বোঝে না লকডাউন!

এভাবেই দুঃখে ভরা এক সংক্ষিপ্ত করুণ কাহিনী তুলে ধরেন উপজেলার সীমান্তবর্তী নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট এলাকার ভ্যান চালক হাট্টু মিয়া (৫৫), আব্দুর সাত্তার (৫২), মোকছেদ আলী (৬৪) ও রফিকুল ইসলাম (৩৭)।

বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অটোরিক্সা ও জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহ্নত গাড়ি ছাড়া রাস্তা-ঘাট প্রায় শূন্য রয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার সদরসহ ছয় ইউনিয়েনের ১৪টি হাটবাজরের মার্কেটগুলো। উপজেলার সদরের কড়াকড়ি লকডাউন পালিত হলেও গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব সেভাবে পড়েনি।

শনিবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, কিছু মানুষ অকারনে হাটবাজারগুলোতে ভীড়বাট্টা করছে। ফলে দুরকম চিত্র দেখা যাচ্ছে শহর ও গ্রামাঞ্চলে।

সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃখলা বাহিনীর সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার পরিদর্শনে গেলে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও গাড়ির বহর দেখার সাথে সাথে সেগুলোর দ্রুত সাটার বন্ধ হয়ে যায়।

কট্টর লকডাউন পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যগণ মাঠে কাজ করছেন বলে নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমন দাস জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত কট্টর লকডাউন কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ও পুলিশসহ সবাই সমন্বিতভাবে মানুষকে যাতে ঘরে রাখা যায় সে জন্য কাজ করছি। আমরা সবাইকে অনুরোধ করবো আপনারা সচেতন থাকবেন, মাস্ক পরুন এবং ঘরে থাকুন। যেহেতু আমরা বড় ধরণের সংক্রমণের দিকে ধাবিত হচ্ছি। এটি কমিয়ে আনার জন্য একমাত্র পথ হচ্ছে ঘরে থাকা। ঘরে বাহিরে বের হলেই নগদ অর্থ জরিমানা গুনতে হবে। উপজেলা প্রশাসন গত দুই দিনে বিভিন্ন হাট-বাজারে কট্টর বিধিনিষেধ অমান্য করায় ৯ জন পথচারীকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার বিষয়টি ইউএনওকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, যদি কোন ব্যক্তির ঘরে খাদ্য সামগ্রী না থাকে তারা উপজেলা প্রশাসন অথবা ৩৩৩ নাম্বারে যোগাযোগ করলে তাদের ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন