• আজ বুধবার, ১৩ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জুলাই, ২০২১ ৷

লকডাউন অমান্য করে ভিন্ন কৌশলে চলছে গরুর হাট!


❏ বুধবার, জুলাই ৭, ২০২১ খুলনা, দেশের খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা সদরের আবাদের হাট এলাকার আমবাগান, পাটবাগানের রাস্তাসহ বিক্ষিপ্তভাবে গরু হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে বাজার কর্তৃপক্ষ ও হাট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। ফলে ওই এলাকায় বসবাসরত মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলীয় নেতাদের ইন্ধনে বিক্ষিপ্ত ওই গরুর হাট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) দিনভর সরেজমিনে আবাদেরহাটে অবস্থান কালে দেখা যায়, গোদাঘাটার শ্মশানঘাটের বিপরীত পাশে অবস্থিত আমবাগানে বসে গরুর হাট। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওইহাটে অভিযানে আসে। তবে তারা আসার আগেই সংবাদ পৌঁছে যায় গরু ব্যবসায়ীদের নিকট। এসময় পাশ্ববর্তী বসতবাড়ির গোয়ালঘর চুক্তি হিসেবে ভাড়া করে নিয়ে সেখানে গুরু নিয়ে সরে পড়েন বাজারে আগত গরু ব্যবসায়ীরা। এসময় অনেককে আবার গোদাঘাটার বটতলা সংলগ্ন পাটবাগানের ভিতরের রাস্তায় গরু ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, আবাদের হাট বাজার সংলগ্ন গোদাঘাটা শ্মশানের বিপরীত পাশের আম বাগানে দীর্ঘদিন ধরে গরু কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গরু ক্রেতা ও বিক্রেতারা। বিক্ষিপ্ত ভাবে বসানো এ হাটে স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই। হাটে আসা লোকজনের মুখে নেই মাস্কও। যে যার মতো করে জনসমাগম করতে ব্যস্ত । তবে দীর্ঘদিনধরে এহাট চললেও প্রশাসন অভিযান চালিয়ে সেভাবে কাউকে ধরতে বা জরিমানার আওতায় আনতে পারিনি। অভিযোগ রয়েছে বিক্ষিপ্ত ভাবে এ হাট বসানোর জন্য মোটা অংকের টাকা পান স্থানীয় আ’লীগ নেতা, জনপ্রতিনিধি, হাট ইজারাদারসহ বাজার কর্তৃপক্ষ। তারা কদমতলা, বাবুলিয়া, পরানদহা, মাধবকাটি, আগরদাড়ী সড়কে সোর্স নিয়োগ করে কঠোর নজরদারীর ভেতরে ওই হাট পরিচালনা করছেন।

সরকার ঘোষিত লকডাউন অমান্য করে কেন তারা গরু ক্রয়-বিক্রয় করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, পেটের টানে এখানে এসেছি। গতবছর অনলাইনে গরু কেনাবেচার সুবিধা ছিলো। এবার সেটাও চালু করিনি জেলা প্রশাসন। তাহলে আমরা কোথায় যাবো? আমাদের বউ, বাচ্চার মুখে খাবার তুলে দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা লকডাউনে ছুটি কাটিয়েও বেতন পাচ্ছেন। তারা তাদের বউ, বাচ্চাদের মুখে খাবার দিচ্ছেন আগের মতোই। তবে আমরাতো আমাদের বউ, বাচ্চার মুখে খাবার তুলে দিতে পারছিনা। তাহলে কী আমরা না খেয়ে মারা যাবো? আমাদের জীবনের কী কোন মূল্য নেই?

এসময় তারা আরো বলেন, একেতো আমাদের সংসার চলছেনা। তার উপর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৫’শ টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যস্ত জরিমানা করছেন। তারা আমাদেরকে জরিমানা করছে না বরং আমাদের বেচেঁ থাকার আয়ু টুকুও কেড়ে নিচ্ছেন। তবে স্থানীয় আ’লীগ নেতা, জনপ্রতিনিধি, হাট ইজারাদারসহ বাজার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সমন্ধে কোন মন্তব্য করেননি তারা।

শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুজিদ বলেন, বিক্ষিপ্তভাবে হাট বসানো হয়েছে এমন তথ্য আমার কাছে নেই।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, জেলায় কোনপ্রকার গরুর হাট বসবেনা। কোন জনপ্রতিনিধি, বাজার কর্তৃপক্ষ, হাট ইজারাদার, রাজনৈতিক দলের নেতারা যদি হাট বসানোর চেষ্টা করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গরু খামারীসহ ব্যবসায়ীদের ধৈর্য্য ধরার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বুধবার (৭ জুলাই) থেকে জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যক্রম শুরু হবে। ওইদিন থেকে সকলে অনলাইনে তাদের গরু বিক্রয়ের নিবন্ধন করতে পারবেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন