• আজ সোমবার, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২ আগস্ট, ২০২১ ৷

হাজার দর্শকের করতালিতে কাঁদলেন বাঁধন

badhon 532
❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ৮, ২০২১ বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক- এখন একটি সিনেমা মুক্তির পর হলে প্রথম শোতে কতজন দর্শক আশা করা হয়? প্রশ্নটি যদি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে হয় উত্তর হবে এক-দেড়শ। আর যদি বাংলাদেশী ছবি বিদেশী কোনো প্রদর্শনীতে হয় তাহলে তো দর্শক আরো কমে যাবে।

কিন্তু চলচ্চিত্রের বিশ্বকাপখ্যাত কান উৎসবে বাংলাদেশের ছবি রেহেনা মরিয়ম সব হিসাব উল্টে দিয়েছে। ৭৪তম আসরের আঁ সার্তে রিগা বিভাগে প্রথম প্রদর্শনীতে এক হাজার ৬৮ জন দর্শক পিনপতন নীরবতায় সিনেমাটি উপভোগ করেন।

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ নির্মিত ছবিটি দেখতে আগে থেকেই বেশ লম্বা লাইন ছিল ডেবুসি হলের সামনে। প্রদর্শনীতে সিনেমাটির পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ ছাড়াও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, ছবিটির সিঙ্গাপুরের প্রযোজক জেরেমি চুয়া, চিত্রগ্রাহক তুহিন তমিজুল, প্রডাকশন ডিজাইনার আলী আফজাল উজ্জল, শব্দ প্রকৌশলী শৈব তালুকদার, কালারিস্ট চিন্ময় রয় এবং নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু উপস্থিত ছিলেন।

ছবি শেষ হওয়ার সঙ্গে বাতি জ্বলে উঠলো সাল দুবুসি অডিটোরিয়ামের। তার আগেই শুরু হলো মুহুর্মুহু করতালি। আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলো হলের প্রতিটি মানুষ। সামনের সারিতে বসে থাকা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ নির্মাতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ ভাসলেন করতালির ঢেউয়ে আর পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ডুবু ডুবু অবস্থা আজমেরী হক বাঁধনের।

অডিটোরিয়ামের ভিডিও আর ছবি থেকে অন্তত সেটাই অনুমান করা যায়। এই সূত্রে প্রিমিয়ার শেষে ছবির প্রধান চরিত্র আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে কথা হয় গণমাধ্যমের।

বাঁধন বলেন, ‘গতকাল রাতেও আমরা হোটেলে বসে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বাংলাদেশের ছবি কে দেখতে আসবে? কারণ, বাংলাদেশ বা আমাদের সিনেমা এখানকার ক’জন মানুষই বা চেনে। খবর নিয়েছি হলটাও অনেক বড়। ১ হাজার আসন! আমাদের ধারণা ছিল শ’খানেক মানুষ আসবে! কিন্তু সকল ধারণা ভুল প্রমাণ হলো। জনসমুদ্র পেলাম ছবি শুরুর আগেই।’

আরও বলেন, ‘শুটিংয়ের পর আমি প্রথম ছবিটি দেখলাম। ফলে এই দেখাটা আমার জন্য আরও অন্যরকম আনন্দ আর বেদনার। কারণ, পর্দায় ছড়িয়ে থাকা রেহানার বেদনাটি আমাকেও ঘিরে ধরেছিল। কিন্তু ছবি শেষ হওয়ার পর সবার এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া, আমাদের দিকে তাকিয়ে ননস্টপ করতালি দেওয়া- এসব দেখে আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। টানা কতক্ষণ করতালি চলেছে সেটার হিসাব না জানলেও, এত দীর্ঘ মুহুমুর্হু করতালি আমি আর শুনিনি।’

স্থিরচিত্রে দেখা যাচ্ছে, কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন বাঁধন, তাকে থামানোর চেষ্টা করছিলেন পাশে দাঁড়ানো সাদ। সাদের মুখে লেগে ছিল করতালির বিপরীতে সৌজন্যতার হাসি।
কান উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আজ বাংলাদেশ সময় ৩টি ১৫ মিনিটে (স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিট) দেখানো হয় আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। এটাই হবে ছবিটির প্রথম প্রদর্শনী।

ছবিটি দেখে প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন দেশের সংবাদকর্মী, এবং মার্শে দ্যা ফিল্মে অংশগ্রহণকারী ফিল্ম প্রফেশনালরা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন