শ্বাসকষ্ট তিন ঘণ্টা নিয়ে হবিগঞ্জ হাসপাতালের ফ্লোরে পড়ে থাকার পর এক ব্যক্তির মৃত্যু


❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ৮, ২০২১ দেশের খবর, সিলেট

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

ডাক্তার না আসায় তিন ঘণ্টা শ্বাসকষ্ট নিয়ে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের ফ্লোরে পড়ে থাকার পর এক পীরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরের এ ঘটনায় আবারো প্রশ্নের মুখে পড়েছে হাসপাতালের সেবার মান ও ডাক্তারদের দায়িত্বজ্ঞান।

মৃত ব্যক্তির নাম সৈয়দ মোজাফফর আলম। তিনি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ এলাকার পীর সাহেব হিসেবে পরিচিত এবং হবিগঞ্জ শহরের রাজনগরের বাসিন্দা।

মৃতের স্বজনরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মোজাফফর আলমকে হাসপাতালে নেয়া হলেও কোনো ডাক্তার-নার্স আসেনি। পরে তারা নিজেরাই ছয়তলা থেকে অক্সিজেন এনে রোগীর নাকে লাগান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। দুপুর আড়াইটার দিকে মৃত্যু হয় মোজাফফর আলমের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় লাশের দুই পাশে বসে কাঁদছেন স্বজনরা।

তারা জানান, সৈয়দ মোজাফফর আলম হঠাৎ শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। এ কারণে সাড়ে ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু কোনো ডাক্তার ও নার্স না পেয়ে তারা ভবনের ছয়তলার করোনা ওয়ার্ড থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসেন। পরে একজন নার্স এসে সিলিন্ডার সেট করে দিয়ে যান। কিন্তু রোগীর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালের ফ্লোরে পড়ে থাকা অবস্থাতেই সৈয়দ মোজাফফর আলম মারা যান।

মৃতে বড় মেয়ের জামাতা সৈয়দ আশরাফ আলী বলেন, শ্বাসকষ্টের রোগীর জন্য সব হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু এখানে বিনা চিকিৎসায় আমার শ্বশুর মারা গেছেন।

জানতে চাইলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আশরাফ উদ্দিনকে তার অফিস কক্ষে পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইলে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল বলেন, আমরা জেনেছি মারা যাওয়া রোগী করোনা সাসপেক্টেড ছিলেন। কিন্তু কেন চিকিৎসক তাকে দেখেননি সেটি আমরা খতিয়ে দেখব।

 

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন