• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

লকডাউন এখন নিষ্ঠুর রসিকতায় পরিণত হয়েছে: মির্জা ফখরুল

fokrul
❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ৮, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লকডাউন বর্তমানে অকার্যকর নিষ্ঠুর রসিকতায় পরিণত হয়েছে। চলমান লকডাউন যেন বেকার হয়ে পড়া কোটি কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে খাবারের অভাবে মারার অমানবিক হাতিয়ার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নগদ আর্থিক সহায়তা বা খাদ্যের ব্যবস্থা না করে `লকডাউনে’ মানুষকে ঘরে বন্দী থাকতে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বৈশ্বিক করোনা মহামারীর সাথে এদেশের মানুষের ঘাড়ে `অব্যবস্থাপনাজনিত মহামারী’ চাপিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, মহামারী ব্যবস্থাপনায় সরকারের উদাসীনতা ও বিজ্ঞানমনস্ক নীতি প্রণয়নে চরম ব্যর্থতার ফলে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় উপনীত হয়েছে। একদিকে অক্সিজেনের অভাবে করোনা রোগীর অকাল মৃত্যু, আইসিউ সুবিধার অভাব। হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য ন্যূনতম বেড পাচ্ছে না এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও ওষুধের অভাবে জনগণের মধ্যে রীতিমত আতংকের সৃষ্টি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত না করেই দেশব্যাপী ‘কঠোর লকডাউন’ চাপিয়ে দেয়ার সরকারের হঠকারি সিদ্ধান্তে বিশেষ করে দিন আনে দিন খায়- এ শ্রেণির মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নগদ অর্থ সহযোগিতা কিংবা খাদ্য সহায়তা ছাড়া অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষকে ঘরে আটকে রাখা রীতিমতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে টানা লকডাউনের নামে সাধারণ ছুটি এবং এ বছরের ০৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর করা লকডাউনে কোটি কোটি কর্মহীন মানুষ খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এর মধ্যে গত ১ জুলাই থেকে প্রথমে ৭ দিন এবং পরবর্তীতে আরও ৭ দিন সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ। কিন্তু শিল্প কল-কারখানা খোলা। সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া নিম্ম আয়ের মানুষ মহাসঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের অপরিকল্পিত ও অমানবিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত এদেশের কোটি কোটি ‘দিন আনে দিনে খায়’ মানুষের সকলের জীবনই স্থবির করে ফেলেছে। আমরা সকলেই জানি, যে কোনো দেশেই যদি প্রকৃত অর্থে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে এর ফলে যারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথা পেটের জ্বালায় মানুষকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখা অসম্ভব এবং তাতে লকডাউনের উদ্দেশ্যই ব্যহত হতে বাধ্য।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ কাজ করে। যারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত। এর বাইরে আমরা যদি দোকান কর্মচারী কিংবা পরিবহন খাতের লোকজনদের ধরি, তারাও একটা বড় অংশ।

মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে যত লকডাউন হয়েছে তাতে দেখা গেছে “দিন আনে দিন খায়” মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে। তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় ক্ষুধার তাড়নায় এসব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নগদ অর্থ/ন্যূনতম খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত না করেই কঠোর লকডাউন আরোপের সিদ্ধান্ত কোনোক্রমেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয় এবং এটা ফলপ্রসূও হবে না। কারণ, লকডাউন কার্যকর করতে গেলে তার পূর্বশর্তগুলো পূরণ করতে হয়।’

তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই লকডাউনে দরিদ্র শ্রেণীর জনগোষ্ঠীকে টিকে থাকার জন্যে কয়েক মাস ধরে লাগাতারভাবে সাপোর্ট দিয়ে গেছে। ইংল্যান্ডে লকডাউনের কারণে যারা বেতন পায়নি তাদের জন্য সরকার আইন করে সহায়তা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশেও নাগরিকদের একাউন্টে আগে নগদ অর্থ জমা দিয়ে অর্থাৎ খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নগদ অর্থ সহায়তা দিলে দেখা যেত, এই জনগোষ্ঠীর কেউ আর ঘর থেকে বের হবে না। নগদ অর্থ বা খাদ্য না দিয়েই যদি তাদের ঘরে আবদ্ধ থাকতে বলা হয়, তাতে একটা ডেসপারেট সিচুয়েশন তৈরি হতে বাধ্য। মানুষ তথন টিকে থাকার প্রয়োজনে নানা ধরনের পথ খুঁজবে- এটাই স্বাভাবিক।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন