🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২১ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৫ আগস্ট, ২০২১ ৷

দামুড়হুদায় ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্টের দাপট, ভেঙ্গে পড়েছে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা

chuadanga-hospital
❏ শুক্রবার, জুলাই ৯, ২০২১ আলোচিত

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলাসহ সীমান্তবর্তী অধিকাংশ গ্রামে ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট করোনার দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। উপজেলার সীমান্তবর্তী  বাড়ী গুলোতে মানুষের জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, গলা ব্যাথা, শ্বাসকষ্টের রোগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ঔষধ ফার্মেসী গুলোতে জ্বরের ওষুধ নাপা, নাপা এক্সট্রা, নাপা এক্সটেন ঠান্ডার ঔষধ ফেক্সো এন্টিবায়েটিক জিম্যাক্স সংকট পড়ে গেছে। উপজেলায় থামছে না মৃত্যুর মিছিল করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে প্রতি দিন প্রায় ৮/১০ জনের মৃত্যু হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট প্লানটেশন নাই অক্সিজেন অভাবে অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। ডাক্তাররা স্থানীয় ধন্যাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে অক্সিজেন সহায়তা নিয়ে কোন রকম হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎস দিচ্ছে। হাসপাতালে স্থাস্থ্য বিধি মানছেনা কোন রোগী ও তাদের স্বজনরা কিছু বললে করছে মারমুখি আচারন। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়েছে, স্বাস্থ্য ঝুকি ও নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু হেনা জামাল শুভ সহ উপজেলায় করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৩ জন।  একই সময় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারাগেছে ৩১ জন নারী-পুরুষ।

বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা করোনা আক্রান্ত রোগী উপজেলার উজিরপুর গ্রামের মুহুরী মো: নাসির উদ্দিনের অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ঠ হলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাবে তাকে রেফার্ড কারা হয় ১৫ কিলোমিটার দুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ১৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে। সেখানে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে আকলিমা বেগম (৫৫) ও সাড়ে ৯ টার দিকে মুসলিমা (৬০) নামে দুজন হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাগেছে।

স্থানীয় ফার্মেসী মালিকরা জানান, জ্বর, ঠান্ডার ওষুধ ও এন্টিবায়েটিকের চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ওষুধ কোম্পনীগুলো এই দুর্যোগের সময় এ সকল ওষুধের সাপলাই (সরবরাহ) বন্ধ রাখার কারণেই এই সংকট দেখা দিয়েছে।

এবিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবাসিক মেডিকের অফিসার ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন প্লানটেশন নাই অক্সিজেন অভাবে অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।

হাসপাতল কর্তৃপক্ষর চেষ্টায় এলাকার ধন্যাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছুটা অক্সিজেন সহায়তা নিয়ে কোন রকম রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে স্থাস্থ্য বিধি মানছেনা রোগি ও তাদের স্বজনরা। কিছু বললে ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের সাথে অসদাচরন করছে তারা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একান্ত প্রয়োজন। প্রতিনিয়ত রোগী ও তার স্বজনদের নানামুখি হুমকির শিকার হতে হচ্ছে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসা পরিবেশ ঠিকরাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আমরা চরম স্বাস্থ্য ঝুকির পাশাপাশি নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছি।

এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা সিভিল সার্জন এস এম মারুফ হাসান জানান, দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পসডাঙ্গা ইউনিয়নে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি হলে ঢাকায় করোনা ধরন পরীক্ষা করা হলে তখন ভারতীয় ভেরিয়ান ডেন্টা ধরা পড়ে। এখন সংক্রমন বৃদ্ধি পেয়েছে নতুন কোন ধরন আছি কিনা দেখতে হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন