• আজ শুক্রবার, ২২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৬ আগস্ট, ২০২১ ৷

জিনজিরায় কামারদের দুর্দিন: ‘আমরা করোনায় মরুম না, মরুম অভাবে’

news5w
❏ সোমবার, জুলাই ১২, ২০২১ ঢাকা

মাসুম পারভেজ, কেরানীগঞ্জ- করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্দিন চলছে কামারদের। তারপরও তারা আশায় ছিল কোরবানি ঈদে কিছুটা হলেও দুর্দশা কাটবে তাদের। সে আশায়ও গুড়েবালি। দরজায় ঈদ কড়া নাড়ছে তারপরও বেচাকেনা নেই দা, বঁটি, ছুরির। এমন কি দা, বঁটি, ছুরি ধার করাতেও আসছে না মানুষ। বছরের একটা সময় শুধু কোরবানি ঈদে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা চলে কামারের দোকানে। এ সময়টির অপেক্ষায় থাকে তারা। এ বছর পুরোটাই ভিন্ন প্রেক্ষাপট।

দিনরাত যেখানে টুং টাং শব্দে মুখরিত থাকতো কেরানীগঞ্জের জিনজিরা তাওয়াপট্টি। যাদের সব ব্যস্ততা ছিলো দা, বটি, কুড়াল, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো লৌহজাত জিনিস তৈরিতে। কিন্তু করোনা আসার পর থেকে কেরানীগঞ্জের তাওয়াপট্টিতে নেই টুং টাং শব্দ।

সরেজমিনে সোমবার (১২ জুলাই) দুপুরে জিনজিরার তাওয়াপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, দা, বটি, ছুড়ির পসরা সাজিয়ে কামারেরা বসে থাকলেও ক্রেতা না থাকায় এসব বিক্রি হচ্ছে না। নতুন অর্ডারও দিতে আসছে না কেউ।

কেমন চলছে বেচাকেনা জানতে চাইলে কামার মিলন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, করোনা আমাদের শেষ কইরা দিছে। গত এগারো মাস ধইরা কোনো বিক্রি নাই। আশায় ছিলাম কোরবানি ঈদে কিছুটা হইলেও বিক্রি বাড়বো। তাও হইলো না। মানুষই আসে না। ঈদের আগে ঢাকার বাইরে থেইক্যা অনেক কসাই আসে দা, বঁটি কিনতে আসত। এইবার তো কসাইও দেখি না।

আর আসবে কেন? মানুষ তো কোরবানি দিতেছে না। আমাগো কষ্ট না খাইয়া মরতে হবে। আর মনে হয় দোকানও রাখতে পারবো না। করোনা শুরু হওয়ার পর পরিবারকে বাড়িতে পাঠায় দিছি। আমি ভাবছিলাম, কোরবানি ঈদে কিছুটা হইলেও বিক্রি বাড়বো। এখন তো তিন ভাগের এক ভাগও বিক্রি হয় না। ঈদের পরে দোকান ছাইড়া আমি বাড়িতে চইলা যামু। আমরা আছি বিপদে। আমরা ভিক্ষাও করতে পারি না। আবার সরকারও আমাদের কোনো সাহায্য করে না।

কামার সজিব বলেন, কোরবানি ঈদ আসলে যেইখানে নাওয়া-খাওয়ার সময় পাই না সেইখানে অলস বইসা আছি। কোরবানি ঈদের আগে এমন সময় আর কোনোদিন দেখি নাই। মানুষ এখন ঘর থেইকা বাইর হইতেই ভয় পায়। কোরবানি দিবো না। দা,বঁটি কিনবোও না। ধারও দিবো না। আমরা বাঁচবো কেমনে? এই কাজ ছাড়া তো অন্য কাজ করতেও পারি না।

আরেক কামার রঞ্জিত কর্মকার বলেন, আমাদের তো বছরে একবারই সবচেয়ে বেশি কামাই হয় তা কোরবানি ঈদে। এরপর সারা বছর টুকটাক যা আয় হয় তা দিয়া আমাদের ভালোই চইলা যায়। করোনা আইছে গরিবদের মারতে। গরিবদের তো আর জমানো টাকা নাই যে বইসা বইসা খাইবো। আমাগো কাম কইরা খাইতে হয়। বেচা-বিক্রি না থাকলে আমাগো কামও থাকবো না, বাঁচতেও পারবো না। আমরা করোনায় মরুম না, আমরা মরুম অভাবে।

তাওয়াপট্টি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যবসায়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি আব্দুল মোতালেব সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমাদের অনেক কারখানা প্রায় বন্ধের দিকে। করোনা ভাইরাসের জন্য আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খুব খারাপ। আমাদের বহু কর্মচারি গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। তারা অন্য পেশায় জড়িত হয়েছে বাঁচার জন্য।

তাওয়াপট্টি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যবসায়ি মালিক সমিতির সভাপতি মো. আকতার জেলানী খোকন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, সারাবিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আর আমাদের দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। এই করোনা ভাইরাসে কারণে আমরা ভালো নেই। সরকারিভাবে এবং উপজেলা থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাইনি। আমি আমাদের কর্মচারি কেউ ভালো নেই। আমরা যতটুকু পারছি তাদের খেয়াল রাখছি।

জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, সরকারিভাবে তাদের জন্য যে সাহায্য সহযোগিতা রয়েছে তা সম্পূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দেয়া হয়। ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারিভাবে যে নির্দেশনা আছে তার মাধ্যমে তারা সরকারি নিয়মানুযায়ী সহযোগিতা নিতে পারেন। এ শিল্পে জড়িত কর্মচারিরা ৩৩৩’তে ফোন করলে সহযোগিতা পাবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন