• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

কক্সবাজারে জামাল হত্যা: এখনও গ্রেফতার হয়নি কেউ

coxsbazar-model-t
❏ বুধবার, জুলাই ১৪, ২০২১ চট্টগ্রাম

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের শিকার জামাল উদ্দিন (৩৫) নামের যুবক হত্যার ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপকর্মের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশের বিভিন্ন সূর্ত্রে জানা গেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীরা।

সন্ত্রাসী হামলার শিকার জামাল উদ্দিন সোমবার (১২ জুলাই) সকাল পৌনে ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যান। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) ময়না তদন্ত শেষে তাকে খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে তাঁর নামাজে জানাযা শেষে দাফন করা হয়।

নিহত জামাল কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মৃত ফজল কবিরের ছেলে।

দাফন শেষে জামালের বোন খুরশিদা জানান, চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় জামালের যখন জ্ঞান ফিরে আসে তখন কিভাবে সে আক্রান্ত হয়েছে তা বলেছে।

জামাল জানিয়েছেন, সদরের খরুলিয়া বাজারপাড়া এলাকার মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত ইউসুফ আলীর ছেলে শওকত আলী পুতু ৭ জুলাই রাতে তার বাড়িতে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে ইউসুফ আলী, তার ছেলে দেলোয়ার হোসেন, লিয়াকত, সাদ্দাম, ওসমান গণি ও দেলোয়ারের ছেলে মেহেদীসহ সবাই মিলে লোহার রড় ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ও শরীর থেঁতলে দেয়। জামাল তাদের বর্বরোচিত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চিৎকার দিলে তার মুখে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

খুরশিদা আরোও জানান, মারের একপর্যায়ে জামাল অচেতন হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে ইউসুফ আলীর বাড়ির সামনে জনচলাচলের রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়। এক টমটম চালক বাড়ি ফেরার পথে একজনকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে কাছে যান এবং জামালকে চিনতে পেরে ঘরে খবর দেয়া হয়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামু চা বাগান হাসপাতালে নেয়।

সেখান থেকে তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়। তাড়াতাড়ি সুস্থ হবার আশায় তাকে পাঁচলাইশস্থ পার্কভিউ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে খরচ বেশি পড়ায় আর্থিক অনটনের কারণে জামালকে আবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ১১ জুলাই। সেখানেই সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মারা যান জামাল।

এদিকে জামালের হত্যাকান্ডটি ধামাপাচা দিতে হত্যায় অভিযুক্ত পরিবারের নারীরা নানানরকম ‘মিথ্যাচার করে’ কক্সবাজার প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। হত্যায় অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র, ও মাদকসহ ডজন খানেক মামলা থাকলেও সংবাদ সম্মেলনে তারা এলাকার নিরহ লোকজন বলে দাবি করা হয়।

নিহত জামালের দুই সহোদর মনসুর আলম ও কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন- আর্থিক বিষয় নিয়ে স্থানীয় ইউসুফ আলীর ছেলে শওকত আলী পুতিয়ার সাথে জামালের বিরোধ চলছিলো। গত ৭ জুলাই রাতে নানার বাড়ি থেকে খরুলিয়া আসছিলেন জামাল। পথে মুন্সীর বিল রাস্তার মাথা নামক স্থানে পৌঁছলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে ধরে ইউসুফ আলীর বাড়ির ভিতরে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পুরো শরীর থেঁতলে দেয়।

ইউসুফ আলীর ছেলে শওকত আলী পুতিয়া ছাড়াও হামলায় আরো অংশ নেন ইউসুপ আলী নিজেই, দেলোয়ার হোছনের ছেলে মেহেদী হাসান, ইউসুফ আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও ওসমান গনি।

তারা আরো জানান- নিহত জামাল উদ্দিনের পিঠের উপরি অংশ, মাথার সামনে বাম অংশে, কপালের ডানপাশে, অন্ডকোষ ও মেরুদন্ডের উপরে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ।

জামাল উদ্দিনের ভাই কামাল ও মনসুর আরো জানান, মাদক ব্যবসায়ী ইউছুপের পরিবার উল্টো আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে। সেদিন সদর থানার এক এসআই তা তদন্তে এসে আমার ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ জেনে চলে গেছে।

ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, স্থানীয় ইউছুফ আলী মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত। তার ছেলে দেলোয়ার, পুতু, লিয়াকত, সাদ্দাম ও ওসমানরা খুবই বেপরোয়া। তারা মাদকের কাঁচা টাকায় ধরাকে সরা জ্ঞান মনে করেই চলে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ টুঁশব্দটিও করতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত বছর জুলাই মাসে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত জামালের উপর হামলাকারিদের এক ভাই রাজামিয়া পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

তিনি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

জানা গেছে- ৫ ভাই, ২ বোনের মধ্যে নিহত জামাল উদ্দিন ৪র্থ। তাকে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মৃতদেহ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন