• আজ সোমবার, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২ আগস্ট, ২০২১ ৷

কেরানীগঞ্জে নদীর তীর ভরাট করে পশুহাট

Keranigonj news
❏ শুক্রবার, জুলাই ১৬, ২০২১ Uncategorized

মাসুম পারভেজ, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি : ঢাকার কেরানীগঞ্জে ইজারাবিহীন হাট স্থাপন করে এর পরিধি বড় করার জন্য নদীতীরে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। কিছুদিন আগেও এই স্থান থেকে অবৈধ হাট ও কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ৫ একর জায়গা অবমুক্ত করেছিল উপজেলা প্রশাসন।

কিছুদিন পার হতে না হতেই আবার একই জায়গায় হাট বসেছে। এমনই ঘটনা ঘটেছে কেরানীগঞ্জ উপজেলার রোহিতপুর ইউনিয়নের নতুন সোনাকান্দা (সৈয়দপুর) ধলেশ্বরী নদীর খেয়াঘাট এলাকায়।

উচ্ছেদকৃত জমিতে হাট কিভাবে বসিয়েছেন- জানতে চাইলে হাটটির ইজারাদার মো. সেলিম বলেন, হাটটি কয়েক মাস আগে উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ করেছিল। পরে আমি ৩-৪ মাস আগেই সরকারিভাবে বার্ষিক ইজারা নিয়েছি। এতদিন করোনার কারণে ঠিকমতো হাট বসাইনি। কিন্তু আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে হাটের ঠিকমতো প্রস্তুতি নিয়েছি। নদীতীরে বালু ভরাটের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়েই সব ধরনের কাজ করেছি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ইজারাদার নদীর পাড় ভরাট করে হাট বড় করছে। অথচ কয়েক মাস আগে এই জায়গা থেকে হাট উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সরকার যদি ইজারা দিয়ে থাকে তবে উচ্ছেদ করল কেন?

এ বিষয় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, হাটটি এক সময় ইজারাবহির্ভূত থাকায় আমরা উচ্ছেদ করেছিলাম। পরে ইজারার মাধ্যমে হাটটি একটি শৃঙ্খলায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। এতে সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে।

নদীতীর ভরাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নদীতীর ভরাটের জন্য কোনো অনুমোদন দেইনি। তাছাড়া এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিষয়। নদীতীরে বালু ভরাটের প্রয়োজন হলে তারাই ভরাট করবে। বালু ভরাটের বিষয়টি আমি শুনেছি। তাছাড়া ইজারাদার সেলিমের বিষয়ে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বালু ভরাটের খবর পেয়ে আমাদের নায়েব সাহেবকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উপজেলার রোহিতপুর ইউনিয়নের নতুন সোনাকান্দা (সৈয়দপুর) ধলেশ্বরী নদীর খেয়াঘাট এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ধলেশ্বরী নদীর পাড়ঘেঁষে গড়ে ওঠা ১টি মাছের আড়ত, ২০টি স্থাপনাসহ একটি গবাদিপশুর হাট উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ খেকে তখন বলা হয়েছিল, উপজেলার সোনাকান্দা মৌজার প্রায় ৫ একর খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিল স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বিরদ্ধে অভিযান চালিয়ে এ জমি উদ্ধার করেছে তারা, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২৫ কোটি টাকার অধিক। এই জমি যেন ভবিষ্যতে পুনরায় জবরদখল না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখবে প্রশাসন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন