🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ জুলাই, ২০২১ ৷

ফুলবাড়ীতে টানা বৃষ্টি,কৃষকদের মাঝে স্বস্তি

Fulbari Photo Amondhan Bhishti
❏ শনিবার, জুলাই ১৭, ২০২১ রংপুর

অনিল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে টানা তিন সপ্তাহ ধরে ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় আমন চাষিরা শ্যালো মেশিন ও সেচযন্ত্রের পানি দিয়ে অঞ্চলের প্রধান ফসল আমন চাষাবাদ করতে দেখা গেছে।

শুধু আমন চাষিরা নয় পানির সংকটে পাট চাষিরাও অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে তারাও শ্যালো ও সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পাট জাঁগ দিচ্ছেন। ফলে পানির অভাবে আমন চাষ বিগ্ন ঘটা ও পাট জাঁগ দিতে না পাড়ায় এ উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা চরম দুচিন্তায় ছিলেন। আবার অনেক কৃষক বৃষ্টির অপেক্ষা ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এ উপজেলার কৃষকদের হাসি ফুটলো।

শুক্রবার দিন ব্যাপী টিপটাপ করে দু-এক ফোঁটা বৃষ্টি পড়লে শনিবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের আমন চাষের জমিতে পানি ভরে যাওয়ায় হাজারও কৃষকদের মাঝে যেন এক নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির খবর নিতে গিয়ে অনেক কৃষক শনিরাত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত চলছে বলে জানান। বৃষ্টির কারণে হাজারও আমন চাষী ও পাট চাষীদের মাঝে এক স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও জানান।

শনিবার সকালে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, চাষীরা কেউ কেউ জমির অ্যাইল ঠিক করছেন। যাতে জমির পানি বেড়িয়ে না যায়। সেই সাথে ট্রাক্টর দিয়ে আমনের জমি তৈরী করছেন। সব মিলে আষাঢ়ের শেষে বৃষ্টির দেখা পেয়ে এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকদের আর্শীবাদ। তাই চাষিরা বৃষ্টিতে ভিজে এখন আমন চাষে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

উপজেলার কুরুষাফেরুষা গ্রামের কৃষক শুশীল কুমার রায় জানান, বৃষ্টির জন্য তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করেছি। তবুও বৃষ্টির দেখা নাই। তাই বাধ্য হয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে সেচযন্ত্র দিয়ে গত তিন-চারদিন থেকে আমনের জমি তৈরী করছি। শনিবার রাতে হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় সত্যিই মনটা ভরিয়ে গেল। এখন আর বাড়তি খরচ হবে না।

একই এলাকার কৃষক আব্দুস সাত্তার, রুহুল আমিন জানান, আমন আবাদটা কৃষকের প্রধান ফসল ও লাভজনক। খরচও কম। বৃষ্টি না থাকায় আমরা খুবেই দুচিন্তায় ছিলাম। এখন আর কোন দুচিন্তা নেই। আল্লাহর অশেষ কৃপায় ভারিবৃষ্টি পাত শুরু হয়েছে। জমিতে অনেক পানি জমেছে। এখন আর কোন দুচিন্তা নেই। মনের আনন্দে আজ-কালের মধ্যেই জমিতে আমন চাষ করতে পারবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলায় ১১ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টি না থাকায় প্রান্তিক চাষিরা শ্যালো মেশিন ও সেচযন্ত্র দিয়ে ১২০ হেক্টর জমিতে চাষা আবাদ করেছে। যেহেতু ভারিবৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আমন চাষাবাদ শেষ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন