• আজ শুক্রবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

লামায় সৎ বাবার বিকৃত লালসার শিকার ৯ বছরের শিশু কন্যা!

বিকৃত লালসার শিকার
❏ রবিবার, জুলাই ১৮, ২০২১ অপরাধ, চট্টগ্রাম

সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে শিশুটিকে। চিকিতসকেরা জানিয়েছেন শিশুটির দ্রুত উন্নত চিকিতসা প্রয়োজন। অসহায় মায়ের সেই সক্ষমতা নেই।

এমন অবস্থায় মামলা না করার শর্তে শিশুটির চিকিৎসা করাবেন বলে শিশুটির মা’কে ফোন করেছেন ধর্ষকের বড় ভাই!

এস.কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন, লামা প্রতিনিধিঃ অভাবের সংসারে মা জাহেদা বেগম স্থানীয় ইউপিতে গিয়েছিলো রিলিফের চালের জন্য। এ সুযোগে খালি বাড়িতে একা পেয়ে ৯ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে সৎ বাবা মোঃ জুনায়েদ(৩৫)। রিলিফের চাল নিয়ে মা বাড়িতে এসে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তার অবোধ কন্যাশিশুটি!

লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ওপিপোস্ট পাড়ায় রোববার দুপুর ১২টায় এই ঘটনা ঘটে। মেয়েটি রূপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী।

সৎ বাবা জুনায়েদ(৩৫) লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কুইজ্জাখোলা এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে।
সংকটজনক অবস্থায় মেয়েটিকে তার মা বিকেল ৪টায় লামা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন ।

লামা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার সহকারী মেডিকেল অফিসার বিবি ফাতেমা ভিকটিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের ডাক্তার বিবি ফাতেমা সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ছোট মেয়েটির গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মেয়েটির পরিবার খুবই গরীব হওয়ায় আপাতত লামা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মেয়েটিকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিতে আমরা চেষ্টা করছি। মেয়েটিকে জরুরী ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া খুবই প্রয়োজন।

ভিকটিমের মা জাহেদা বেগম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি ও আমার মা সকাল সাড়ে ১০টায় সরকারি রিলিফের চাল আনার জন্য রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে যাই। সেখান থেকে দুপুর ১টায় বাড়ি ফিরে এসে দেখি বাড়িতে মানুষের ভীড় ও আমার ৯ বছরের বড় মেয়েটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মেয়ে আমাকে জানায় আমার স্বামী তার সৎ বাবা জুনাইদ প্রকাশ কালু (৩৫) তাকে ধর্ষণ করেছে।
আমরা দ্রুত মেয়েকে নিয়ে লামা হাসপাতালে আসি। সে আমার প্রথম স্বামী শহীদুল ইসলামের মেয়ে। জুনাইদের সংসারে আমার দুই ও এক বছরের দুই মেয়ে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা বাড়িতে গেলে আমার স্বামী জুনায়েদ তার বড় ভাই মোঃ ইসমাইলের সাথে পালিয়ে যায়। আমার ভাসুর রাত ৭টার সময় আমাকে ফোন দিয়ে বলে, তোমার মেয়ের চিকিৎসা আমরা করাবো। তবে মামলা করলে আমরা একটাকাও দিবোনা । আমার স্বামী জুনায়েদের বাড়ি লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কুইজ্জাখোলা এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে। এখন আমার কাছে একটি টাকাও নেই। কি ভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাবো ? এই বলে হাসপাতালের বেড়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অসহায় মা ।

ধর্ষক সৎ বাবা জুনায়েদের বড় ভাই মোঃ ইসমাইলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, আমার ভাই অপরাধ করেছে। তাই মেয়ের মা জাহেদা বেগমকে ফোনে বলেছি, আমরা তোমার মেয়ের চিকিৎসা করাবো। তবে থানায় কোন মামলা করলে আমরা আর কোন চিকিৎসা করাবোনা। একটি বিকাশ নাম্বার দিতে বলেছি।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনে হাসপাতালে এসআই আশ্রাব হোসেনকে পাঠিয়েছি।
ধর্ষক সৎ বাবা জুনায়েদকে আটক করতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি ।