• আজ শুক্রবার, ২২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৬ আগস্ট, ২০২১ ৷

শেষ মূহুর্তে টুংটাং শব্দে মুখরিত টাঙ্গাইলের কামার পল্লী


❏ সোমবার, জুলাই ১৯, ২০২১ ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার:

দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম ঈদুল আজহা। আর মাত্র ২ দিন পরেই কুরবানির ঈদ। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কুরবানি করা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের কামার শিল্পের কারিগররা। কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন সব ধারালো সামগ্রী। তবে এসব তৈরিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। পুরানো সেকালের নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো সামগ্রী তৈরির কাজ। তবে দ্রব্য মূল্যের দাম কিছুটা বেশি এবং ঈদের বাকি আর মাত্র ২ দিন। জমে উঠেছে দা, কাচি, হাসুয়া, কোপা, ছুরি চাপাতির বেচাকেনা। ফলে এই মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা।

শান্ত কর্মকার বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এ পেশায় জড়িত। কুরবানীর ঈদ আসলেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়,আমরাও এ সময়ের অপেক্ষায় থাকি। দেশি চাপাতিগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি হয় থাকে। প্রতি কেজি ওজনের চাপাতির দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া বিদেশি চাপাতির দাম ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

দ্বিপ কর্মকার বলেন, সারাবছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। কুরবানির ঈদের আগে এক সপ্তাহ ভালো বেচাকেনা হয়। ওই সময় দামও ভালো পাওয়া যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লোহার তৈরি ছোট ছুরি ৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জবাই ছুরি মিলছে ৫০০- ৬০০ টাকায়। বিভিন্ন সাইজের চাপাতি ৬০০-৮০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। দা-বঁটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০০ টাকায়।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পার্ক বাজার এলাকার ক্রেতা নাজমুল ইসলাম বলেন, কুরবানির ঈদ আর মাত্র ২ দিন বাকি তাই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন তিনি। কলেজ পাড়া এলাকার ক্রেতা আলিম বলেন, অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, কাটারির দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি।

কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের ব্যস্থতায় নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। তারা পুরোদমে আগামী মঙ্গলবার (২০ জুলাই) পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান তারা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন