• আজ শুক্রবার, ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ জুলাই, ২০২১ ৷

জামি’আ রাহমানিয়া ছাড়তে হলো মামুনুল হক পরিবারকে

jamiya rah 24
❏ সোমবার, জুলাই ১৯, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- অবশেষে মাহফুজুল-মামুনুল হক পরিবারকে ছাড়তে হলো দেশের প্রথিতযশা কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া। মোহাম্মদপুরের দ্বীনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি টানা দুই দশক ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল দেশবরেণ্য আলেম শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক পরিবার।

সোমবার সকালে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মুহতামিম মরহুম আজিজুল হকের ছেলে মাওলানা মাহফুজুল হক মাদরাসার মূলফটকে তালা দিয়ে বেরিয়ে যান। এ সময় মাদরাসার চাবি কওমি শিক্ষা বোর্ড আল হাইআতুল উলিয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। পরে উপস্থিত শিক্ষক-ছাত্রদের নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন মাওলানা মাহফুজুল হক।

তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে কথা আসছে- আমাদের এ প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হবে, এ ভবন আমাদের ছাড়তে হবে। আমাদের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোনো নোটিশ আসেনি। দেশের শীর্ষ আলেমরা এ বিষয়টি নিয়ে কোনো পরামর্শও করছেন না।

চলমান অবস্থার অবসান হওয়া দরকার উল্লেখ করে মাহফুজুল হক বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের উপস্থিত শিক্ষক ও ছাত্ররা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশপাশে চলে যাচ্ছেন। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে মাদরাসার সব গেটে তালা দিয়ে শীর্ষ আলেমদের কাছে চাবি হস্তান্তর করবো। এ সময় মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের অধৈর্য না হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

দেশের প্রসিদ্ধ কওমি মাদ্রাসাগুলোর একটি মোহাম্মদপুরের জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসাটি ওয়াকফ প্রশাসনে নিবন্ধিত। ওয়াকফ সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা এই মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে নিয়ন্ত্রণে নেয় হেফাজত নেতা মাহফুজুল হক, মামুনুল হকের পরিবার। সেই সময় থেকে মাদ্রাসাটির পরিচালনার দায়িত্ব ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যায় ওয়াকফ অ্যাস্টেট পরিচালনা কমিটি। আদালতের রায়, ওয়াকফ প্রশাসনের আদেশ থাকার পরও অদৃশ্য কারণে ব্যর্থ হন তারা।

সম্প্রতি হেফাজেতের তাণ্ডব ও মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মাদ্রাসা ভবন ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমোদিত কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসাটির বর্তমান মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হককে ‘চাপ দেওয়া হয়’।

এদিকে গতকাল রবিবার (১৮ জুলাই) আল হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুফতি রুহুল আমিন, হেফাজত মহাসচিব নূরুল ইসলাম জেহাদী, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মুফতি এনামুল হকসহ কয়েকজন এ বিষয়ে পরামর্শ করেছেন বলেও জানান মাহফুজুল হক।

তিনি বলেন, আমরা জেনেছি তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মন্ত্রী তাদের আশ্বাসও দিয়েছেন। এতে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, দীর্ঘদিন ধরের চলে আসা এই অবস্থার একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাবে।

মাহফুজুল হক আরও বলেন, শীর্ষ আলেমদের পরামর্শের পর আমরাও মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে পরামর্শ করেছি। দুপুরে (রবিবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে বার্তা আসে, আমরা যেন মাদ্রাসার চাবি আল হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানে কাছে বুঝিয়ে দেই।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন