• আজ সোমবার, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২ আগস্ট, ২০২১ ৷

ফরিদপুরে করোনাভীতি উপেক্ষা করে ঈদ কেনাকাটায় উপচে পড়া ভীড়!

Faridpur Eid market pic
❏ সোমবার, জুলাই ১৯, ২০২১ ঢাকা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জমজমাট হয়ে উঠছে ফরিদপুরের মার্কেটগুলো। করোনাভাইরাস রোধে নানা শর্তে মার্কেট খোলার অনুমতি দিলেও তা মানছেন না কেউই। করোনাভীতি উপেক্ষা করে ক্রেতাদের ঢল নেমেছে মার্কেটগুলোতে।

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেটসহ দোকানগুলোতে চলছে কেনাকাটা। মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা নেই শপিংমলগুলোতে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ এবং স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানতে ফরিদপুর চেম্বার ব্যবসায়ীদের চিঠি দিলেও সে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কেটগুলোতে উপঁচে পড়া ভিড় বাড়ছে।

ফরিদপুরের মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, নানা বয়সী ক্রেতাদের ভিড়। পা ফেলার মতো জায়গা নেই কোথাও। কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি। সঙ্গে রয়েছে শিশু-কিশোররাও।

মার্কেট বা বিপনীবিতানগুলো খুলতে সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়, কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল কিংবা দোকানপাটে যাতায়াত করতে হবে। কিন্তু ঈদ আনন্দে কেনাকাটার তোড়জোড় বাড়ায় উধাও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রেতা ও বিক্রেতা একে অন্যের গায়ের সঙ্গে গা ঘেঁষে কাপড়, জুতা, টি-শার্টসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বেঁচাকেনা করছেন। অনেকের মুখে নেই মাস্ক। আর থাকলেও তা থুতনিতে বা কানে ঝুলছে।

ব্যবসায়ীরা জানায়, এবারে অনেক দেরি করে কেনাকাটা শুরু হয়েছে। গত ঈদে করোনার কারণে খুব একটা কেনাকাটা হয়নি। বাজার দখল করেছে দেশীয় কাপড়। এছাড়া শিশুদের হরেক রকম পোশাকও বিক্রি হচ্ছে বেশি।

শিশুদের পোশাকের দাম অপেক্ষাকৃত বেশি। এছাড়াও জিন্স প্যান্ট, গ্যাবার্ডিন প্যান্টের পাঁশাপাশি কালার শার্ট ফুলশার্ট, চেক শার্ট, এক কালার শার্ট রয়েছে পছন্দের তালিকায়। টপ, স্কার্ট, ফ্রকও রয়েছে ছোটদের পছন্দের তালিকা। ছেলেদের পোশাকে হরেক রকমের বর্ণালী পাঞ্জাবির চাহিদাই এবার সর্বাধিক। এক রঙয়ের বা সাদা পাঞ্জাবির দিকে নজরই দিচ্ছে না ক্রেতারা।

জুতা ব্যবসায়ী নুর হোসেন বলেন, জুতার দোকানে ভিড় থাকলেও গতবারের মত বিক্রি নেই। এ কারণে জুতা ব্যবসায় লস হতে পারে। হাট বাজারগুলোতে রাস্তার দুই পাঁশ দিয়ে ফুটপাতের দোকানে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ কেনাকাটা করছে। তবে তারাও বলছে গতবারের চেয়ে এবারে দাম বেশি।

ফরিদপুর তিতুমীর মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী জয় কাজী বলেন, ক্রেতার চাপে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কেটের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে না করোনাকাল যাচ্ছে। এভাবে ক্রেতা আসলে রেকর্ডসংখ্যক বিক্রি হবে ও দীর্ঘদিন যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা কিছুটা পুষিয়ে নেয়া যাবে।

নগরকান্দার কাইচাইল এলাকার গৃহবধূ রুপালী বেগমের সঙ্গে সন্তানকে নিয়ে মার্কেটে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ঝুঁকি আছে জানি। কিন্তু কিছু করার নেই। গত ঈদে কিছু কেনাকাটা করতে পারিনি। এবার না করলেই নয়। আর বাসায় কেউ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে সঙ্গে নিয়েই আসতে হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে, নিউ মার্কেট ও  শরীয়াতুল্লাহ মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিংমলে।

ফরিদপুর নিউ মার্কেটে আসা ক্রেতা সাথী আক্তার বলেন, রিস্ক নিয়ে মার্কেটে এসেছি। শহরে থাকি, ঈদে গ্রামে যাবো। তাই স্বজনদের জন্য কিনতে হচ্ছে ও নিজের সন্তানদের জন্যও। করোনার ভয় তো আছে তবুও কিনতে হচ্ছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জামাল পাশা বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়া, মার্কেট কমিটির লোকদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেঁচা করা ও মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করার অনুরোধ করা হয়েছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, মার্কেট বা শপিংমল খুলতে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও জনসমাগম এড়াতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। যদি কেউ না মানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়াও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, সেটি অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন