• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

ভালুকায় চামড়ার ব্যাপক দরপতন, ক্রেতা না পেয়ে ফেলে দিচ্ছেন অনেকেই!

Bhaloka news
❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২২, ২০২১ ময়মনসিংহ

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার পৌর শহরে কুরবানীর চামড়া বিক্রয়ের জন্য ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

যদিও সরকার এ বছর রাজধানীর জন্য গরুর চামড়ার (লবণযুক্ত) দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা, বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

ঈদের দিন অর্থাৎ বুধবার (২১ জুলাই) বিকেলে ভালুকার পৌর শহরে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত চামড়ার দামের সাথে বাস্তবে বিন্দুমাত্র কোন প্রতিফলন নেই।

গত বছরের ন্যায় এবারও অনেকে চামড়ার ক্রেতা না পেয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলছেন। চামড়ার ‘ন্যায্য মূল্য’ না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় ও আবর্জনার ভাগাড়ে চামড়া ফেলে দিচ্ছেন অনেকেই ।

২ নং ওয়ার্ডের জলিল তালুকদার জানান ৮০ হাজার টাকায় গরু কিনে কোরবানি করেছি, চামড়ার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতা আসেনি! তাই মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

একই ওয়ার্ডের শরিফ খান জানান, চামড়ার কোন ক্রেতা না পাওয়ায় কসাইদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেছি ফেলে দিতে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন চামড়ার টাকা গরিবের হক, আমরা চামড়া বিক্রি করতে না পারায় গরিবকে তার হক থেকে বঞ্চিত করছি।

২নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী মাজারুল ইসলাম স্বপন জানান, ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায় গরু কিনে শেষ পর্যন্ত ৪০০ টাকায় চামড়াটি বিক্রি করতে পেরেছি।
মাজহারুল খোকন জানান, ৮০ হাজার টাকা করে ২টি গরুর চামড়া ১৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, ‘কোরবানির পশুর চামড়া গরিবের হক, চামড়া বেশি দামে বিক্রি করতে পারলে তা গরিব মানুষই পাবে।’

১নং ওয়ার্ডের আব্দুর রশিদ বলেন আমাদের পরিবারের মোট আটটি গরু জবাই হয়েছে চামড়া বিক্রি করার জন্য কোন ধরণের ক্রেতা না পাওয়াই, স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দিয়ে দিয়েছি তারা পরবর্তীতে কি করেছে তা জানা নেই। চামড়ার একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, ‘গ্রাম ঘুরে কয়েকটি চামড়া কিনে বিক্রি করতে এনেছি। এখন পর্যন্ত একজন ক্রেতাও পাইনি।’ একই বাজারের নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন , ‘গতবছর অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। এবারও সেরকম অবস্থা তৈরি হয়েছে। তেমন কেউই চামড়া কিনছেন না।’

দেশে যদিও চামড়ার বাজার ভালো এবং চাহিদাও আছে, কিন্তু চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতা না পাওয়া সত্যি হতাশাজনক। অনেকেই এজন্য কর্তৃপক্ষকে দুষছেন। তাদের মতে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে না পারলে এই অনিয়ম দূর হবে না।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন