• আজ শুক্রবার, ২২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৬ আগস্ট, ২০২১ ৷

রংপুরের চামড়া বাজারে মন্দাভাব, নেই কর্মচাঞ্চল্য

Rangpur Chamra Pic
❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২২, ২০২১ রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল,রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরে কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনার বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ঈদের প্রথম দিন ও দ্বিতীয় দিনেও জমে ওঠেনি চামড়াপট্টি। নেই চামড়ার তেমন আমদানি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার ও ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়েও বেশি দামে চামড়া বিকিকিনি হচ্ছে। আর বিক্রেতাদের অভিযোগ, গুদামে গুদামে ঘুরেও মিলছে না ন্যায্য দাম। বাধ্য হয়ে কম দামেই হাতবদল হচ্ছে কাঁচা চামড়া।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চামড়া কেনাবেচার জন্য বিখ্যাত রংপুর নগরের হাজীপাড়া চামড়াপট্টি এলাকা ঘুরে এমনটাই জানা গেছে। চামড়ার আমদানি কম হলেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এখানকার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

গতবারের তুলনায় রংপুরে চামড়ার আমদানি কম হয়েছে এবার। চামড়া কেনার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের তেমন আগ্রহ নেই। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী গুদাম বন্ধ করে রেখেছেন। অনেকের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট আর লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা নিয়ে চামড়াপট্টিতে তেমন কোনো কর্মচাঞ্চল্য নেই। প্রায় ১০-১২ জন ফড়িয়া এবং হাতে গোনা ৩-৪ জন ব্যবসায়ী চামড়া কিনছেন। সেখানকার বেশির ভাগ গুদাম বন্ধের সঙ্গে বেড়েছে চামড়াবিমুখ ব্যবসায়ীর সংখ্যা। যারা চামড়া কেনাবেচায় আছেন, তারাও লোকসানে শঙ্কিত।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই চামড়ার ব্যবসা ধরে রাখতে পারেননি। আবার অনেকে চামড়া ব্যবসায় ঋণ না পেয়ে পুঁজির অভাবে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন যারা বাপ-দাদার এই ব্যবসা ধরে আছেন, তাদের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন।

চামড়াপট্টিতে কথা হয় কয়েকজন মৌসুমি ক্রেতার সঙ্গে। প্রতিবারের মতো এবারো লাভের আশায় চামড়া কিনেছিলেন মুসা মিয়া ও হেলাল হোসেন। তারা জানান, ঈদের দিন দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু বিক্রি করতে এসে তাদের লোকসানের হিসেব কষতে হচ্ছে। চামড়ার আমদানি কম হওয়ার পরও দাম বেশি না পাওয়ায় হতাশ তারা।

চামড়া ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এবার আমদানি অনেক কম। শহরে কোরবানির সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও এ বছর গ্রামে কোরবানির সংখ্যা অনেক কম। তারপরও চামড়ার দাম বাড়ছে না। গরুর চামড়া কেনাবেচা নিয়ে কয়েকটি গুদামঘরে তোড়জোড় থাকলেও খাসি ও বকরির চামড়ার তেমন চাহিদা নেই। একেকটি খাসি-বকরির চামড়ার ১০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে দেখা গেছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায়, ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ৩০ টাকা এবং ভেড়ার চামড়া ৫-১০ টাকায় কিনছেন।

চামড়াপট্টিতে গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা হুমায়ুন কবির বলেন, ৯১ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৬০০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়ার কেউ দামই বলে না। একই রকম অভিযোগ নাহিদুল ইসলাম নামে আরেক বিক্রেতার। তিনি বলেন, ৭১ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৩০০-৪০০ টাকায়। কেউ দাম করছে না। অথচ বাসায় ওই চামড়া ৮০০ টাকা দাম করেছেন একজন ফড়িয়া।

চামড়াপট্টি এলাকার বড় ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন, মাহবুবার রহমান বেলাল, মুরাদ খাঁন, আব্দুল লতিফ খাঁন, আজগর আলী, ইকবাল হোসেন, সালেহ মোহাম্মদ মুসা মিলনসহ জেলার প্রসিদ্ধ চামড়া ব্যবসায়ীরা এবার চামড়া কিনছেন না। গতবছরও তারা চামড়া কেনা থেকে বিরত ছিলেন।

এ ব্যাপারে মাহবুবার রহমান বেলাল জানান, সময়মতো বকেয়া টাকা তুলতে ব্যর্থ হওয়া, চামড়ার ভালো বাজার না পাওয়াসহ নানা সমস্যার কারণে চামড়াপট্টিতে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসা করছে। পেশা বদল করে নেওয়া বেশির ভাগ চামড়া ব্যবসায়ী এখন শুধু ঈদুল আজহায় মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার এ বছর গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুটে পাঁচ টাকা দাম বাড়িয়েছে। ছাগলের বাড়িয়েছে দুই টাকা। এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ১৫ থেকে ১৭ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ খাঁন জানান, এবার ঈদে চামড়ার আমদানি কম হওয়ার অন্যতম কারণ ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট। তারা এমন দাম বেঁধে দিয়েছেন, যাতে ব্যবসায়ীরা চামড়াবিমুখ হন। এ অবস্থা চলতে থাকলে পাচারের পথ প্রসারিত হয়ে ভবিষ্যতে চামড়াশিল্প আরও বড় সংকটে পড়বে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন