• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

টাঙ্গাইলে রক্ত দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীকে দেয়া হলো মানসিক রোগীর ইনজেকশন!

Tangail student pic
❏ শুক্রবার, জুলাই ২৩, ২০২১ ঢাকা

তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: রক্ত দিতে গিয়ে টাঙ্গাইলে এক শিক্ষার্থীকে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর ইনজেকশন পুষ করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল ক্লিনিক এন্ড হসপিটালে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল পৌর এলাকার পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে বায়েজিদ। তিনি সরকারি সা’দত কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে একটি লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন।

জানা যায়, বায়েজিদের এক বন্ধুর বড় ভাইয়ের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলো। সন্তান ডেলিভারির জন্য ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল ক্লিনিক এন্ড হসপিটালে ভর্তি হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারীর পাশেই এক মানসিক রোগী ভর্তি ছিলো। পরে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর রক্ত প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে বায়েজিদ দুপুরে রক্ত দেয়ার জন্য ক্লিনিকে যায়। পরে ওই ক্লিনিকের প্যাথলজি বিভাগের প্যাথলজিস্ট মেহেদী হাসান দু’টি মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর ইনজেকশন পুষ করেন।

শিক্ষার্থী বায়েজিদের সহকর্মীরা জানায়, রক্ত দিতে হলে আগে কি ইনজেকশন দেয়া লাগে এমন প্রশ্ন করার পরেও মেহেদী হাসান বায়েজিদকে দু’টি ইনজেকশন পুষ করে। পরে তার কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে মেহেদী হাসান বলে ভিটামিনের ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। পরে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেহেদী হাসান শটকে পড়েন। পরবর্তীতে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখি এটি মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর জন্য ইনজেকশন।

তারা আরো বলেন, মূলত ভুল করে বায়েজিদকে ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। ইনজেকশন দেয়ার আগে মেহেদী হাসান বায়েজিদকে কোন কিছুই জিজ্ঞাসা করেননি। যদি রোগীর নাম ঠিকানা মিলেয়ে দেখা হতো তাহলে এমন ভুল
হতো না।

শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, আমার এক বন্ধুর বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে রক্ত দেয়ার জন্য ক্লিনিকে আসি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে দু’টি ভারসাম্যহীন রোগীর ইনজেকশন পুষ করে। এতে আমি চিন্তিত রয়েছি। আমার এখন ঘুম ঘুম ভাব আসতেছে। এ ঘটনায় আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ দিকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী বায়েজিদের সহকমর্কীদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাক বিতন্ডা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেয়ে বায়েজিদের এলাকার স্থানীয় কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। পরে হাসপাতাল কতৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে লিখিক একটি মুচলেকা দেয়। ওই মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়, ইনজেকশন পুষ করার ফলে যদি তার কোন ক্ষতি হয় তাহলে আমরা দায়ভার বহন করবো।

ক্লিনিকের প্যাথলজি বিভাগের প্যাথলজিস্ট মেহেদী হাসান বলেন, অন্য জনকে দিতে গিয়ে ভুল করে বায়েজিদকে ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। রক্ত দিতে হলে আগে ইনজেকশন দেয়া লাগে কি না এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেনি। পরে তিনি বিষয়টি ভুল শিকার করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভুল করে মানসিক এক রোগীর ইনজেকশন ওই আরেকজনকে দেয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল ক্লিনিক এন্ড হসপিটালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের ভুল হয়েছে। ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দেয়া হয়েছে। তার যতো কোন ক্ষতি হয় তার প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন