• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

ফুলবাড়ীতে ১৮ মাসে পানিতে ডুবে ১৪ শিশুর মৃত্যু

Fulbari Photo Thana
❏ শনিবার, জুলাই ২৪, ২০২১ রংপুর

অনিল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে গত ১৮ মাসে উপজেলায় পানিতে ডুবে ১৪ শিশুর মৃত্যুর হয়েছে।

একদিকে পরিবারের অভিভাবক সচেতনতার অভার,অন্য দিকে এ উপজেলা অধিকাংশ পরিবারে বাড়ীর উঠানে বড় বড় পুকুর। সেই সাথে এ উপজেলায় ধরলা নদী, বারোমাসিয়া নদী, নীলকমল নদীসহ অসংখ্য ডোবা-নালা, খাল-বিল থাকায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু যেন থামছেই না।

তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২০ সালের ১ লা জানুয়ারী থেকে ২০২১ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত ফুলবাড়ী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ১৪ শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নাগরিক সমাজের দাবী প্রতিটি পরিবারে মা-বাবাসহ সকল নাগরিক প্রতিটি শিশুর ওপর যত্ন সহকারে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানিয়েছেন। কোন ভাবেই যেন শিশুকে বাড়ীর উঠানে একা খেলতে দিবেন না এবং একা পুকুরসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে গোসল করতে দেয়া যাবে না। বাবা-মা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের ওপর বিশেষ নজর রাখলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা শূণ্যের কোঠায় আসবে।

সেই সাথে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় মসজিদ,মন্দিরসহ সরকারী ও বেসারকারী ভাবে শিশু ও অভিভাবকদের ওপর শিশুদের পথ চলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিদের্শনামুলক প্রচার-প্রচারণা চালাতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ।
বড়ভিটা ইউনিয়নের তাজুল ইসলাম জানান, তার দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে বাড়ীর উঠানে খেলতে গিয়ে পাশের একটি ডোবার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। আসুন আমরা সবাই সচেতন হই। শিশু সন্তানদের বাঁচাই। তিনি আরও জানান কোন বাবা-মা শিশু সন্তানকে বাড়ীর উঠানে খেলতে দিবেনা।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার জানান, শিশুদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে লালন-পালন করার দায়িত্ব বাবা-মাসহ পরিবারের সবার ভ’মিকা রাখতে হবে। আমাদের বাড়ীর আশপাশে অনেক পুকুর ডোবা-নালা রয়েছে। তাই শিশুদের বাড়ীতে একা ফেলে যাবেন না। বাবা-মা সচেতন হলেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা অকেকাংশে কমে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। যেহেতু আপনার মাধ্যমেই শুনলাম ২৫ জুলাই এই প্রথম বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে প্রথমবারের মতো পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধে আন্তজার্তিক দিবস পালিত হবে। সেহেতু এই দিবসটির মাধ্যমে অনেক বাবা-মাসহ অভিভাকরা সচেতন হবে। এভাবে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে বাবা-মা সচেতন হলেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ঘটবে না।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব কুমার রায় জানান, ২০২০ সালের ১ লা জানুয়ারী থেকে ২০২১ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত এ উপজেলায় ১৪ শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

ওসি রাজীব কুমার রায় আরও জানান প্রতিটি পরিবারে বাবা-মা তাদের শিশু সন্তানদের গুরুত্বসহকারে লালন পালন করার আহবান জানান। সেই সাথে অনেকের বাড়ীর আশেপাশে পুকুর ডোবা-নালা থাকায় একা কোন শিশুকে বাড়ীর উঠানে খেলতে দিবেন না। বাবা-মা একটু সচেতন হলেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা শূণ্যের কোঠায় আসবে বলে আমার বিশ্বাস।

আরও পড়ুন :

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন