🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ১০ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

কক্সবাজারে নতুন উপজেলা ‘ঈদগাঁও’

Cox's Bazar news
❏ মঙ্গলবার, জুলাই ২৭, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার জেলার নবম উপজেলা হিসাবে ‘ঈদগাঁও’ কে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ জুলাই) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’র ১১৭ তম সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয় নিশ্চিত করেছেন ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের সচিব ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ঈদগাঁওকে উপজেলায় রূপান্তরের দাবি করে আসছে এতদঞ্চলের অধিবাসী। দীর্ঘ ৫০ বছর পর আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদগাঁও বাসীর স্বপ্নপূরণ করেছেন। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ঈদগাঁও থানা হিসেবে যাত্রার ৫ মাসের মাথায় উপজেলার ঘোষণাও আসায় দুটি কাঙ্খিত উপহারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঈদগাঁওর সর্বস্তরের মানুষ।

ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের সচিব ও কউক চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, প্রাচীনকাল থেকে বৃহত্তর ঈদগাঁও বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে প্রসিদ্ধ। যুগে যুগে তার প্রসার ঘটেছে। কিন্তু সদর উপজেলার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় আরেকটি উপজেলার উপর দিয়ে গিয়ে এতদঞ্চলের লাখো জনতাকে প্রশাসনিক সেবা পেতে কক্সবাজার পৌছাতে হতো। এতে দূর্ভোগ বাড়তো। তখন থেকেই বৃহত্তর ঈদগাঁওর ৫ ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা বাস্তবায়নের দাবী উঠে। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি। আমি ২০০৯ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর এলাকায় এসে ঈদগাঁওকে স্বতন্ত্র উপজেলা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। তখনই কবি মুহম্মদ নুরুল হুদাকে (বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক) সভাপতি ও আমি সদস্য সচিব হয়ে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের পর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নুরুল আজিমকে কো-অর্ডিনেটর করে প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে আসলে একান্ত ভাবে ঈদগাঁও উপজেলা করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরি। ওনার পরামর্শে ২০২০ সালে এ ব্যাপারে বহুদূর এগিয়ে যায়। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি মতে স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরোয়ার কমলও উপজেলা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন। আমাদের জন্য বিষয়টি সহজ হয়ে আসে ঈদগাঁওর কৃতি সন্তান হেলালউদ্দীন আহমদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর। আমাদের তাগাদায় তিনি প্রশাসিক কাজ গুলো এগিয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপনের পর অবশেষে স্বাধীনতার ৫০ বছরের মাথায় ঈদগাঁও উপজেলা হিসেবে ঘোষণা পেয়েছে।

স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, প্রশাসনিক উপজেলার অভাবে ঈদগাঁওয়ের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে একপ্রকার বঞ্চিত ছিল। একটি সরকারি হাসপাতাল করা যায়নি, একটি ফায়ারসার্ভিস স্টেশন করা যায়নি। করা যায়নি একটি সরকারি কলেজ ও একটি স্কুল। দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার দুরে কক্সবাজারে গিয়ে সেবা নিতে নানাভাবে হয়রানি শিকার হতে হয়েছে। উপজেলা ঘোষণায় ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে ঈদগাঁওয়ের বাসিন্দারা।

প্রশাসন সূত্র মতে, আগে সদর উপজেলায় থাকা ঈদগাঁও, ইসলামপুর, ইসলামাবাদ, জালালাবাদ, পোকখালী ইউনিয়ন নিয়ে অনুমোদন পেয়েছে ঈদগাঁও উপজেলা। এ পাঁচ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা প্রায় এক ৮১ হাজার। আর মোট সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজারের মতো।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কক্সবাজারকে নিয়ে আলাদা ভাবেন। পর্যটন রাজধানী হিসেবে কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির সূতিকাগার হিসেবে গড়তে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গভীর সমুদ্র বন্দর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মেরিন ড্রাইভ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রেললাইনসহ নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ‘ঈদগাঁও উপজেলা’ ঘোষণা করায় জেলাবাসীর পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এদিকে, দীর্ঘ ৫০ বছর পর ঈদগাঁওকে উপজেলা ঘোষণা করায় আমজনতার মাঝে উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হচ্ছে। একে অপরকে মিষ্টি মুখ করাচ্ছেন আনন্দে। প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভরিয়ে তুলছেন আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন