• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, জনজীবন বিপর্যস্ত

ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
❏ মঙ্গলবার, জুলাই ২৭, ২০২১ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

শাহীন মাহমুদ রাসেল,কক্সবাজার প্রতিনিধি:

দু’দিনের অব্যাহত ভারি বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে কক্সবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে সদর, রামু, টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ জেলার ৩০০ শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত কয়েক লক্ষ মানুষ। মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্ধ হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বীজতলা। তলিয়ে গেছে শতাধিক মাছের ঘের।

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। খরুশকুল-ঈদগাঁও সড়ক ফুলেশ্বরী নদীর সাথে একাকার হয়ে গেছে।

নতুন উপজেলা ঈদগাঁও সড়কের বাজারসহ ফুলেশ্বরী নদীর উভয় পাশে অন্তত ৩৫টি গ্রাম ডুবে গেছে। এতে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাঁকখালী নদীর উভয় পাশে রামু ও সদর উপজেলার অন্তত ৭টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও উখিয়া ও মহেশখালীতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে রোহিঙ্গাসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৫-৬ জন।

উখিয়ার কুতুপালং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, গত সোমবার থেকে টানা বৃষ্টিপাতে কুতুপালংয়ের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে কুতুপালং বাজারের একাংশ, পূর্ব পাড়া, পশ্চিমের বিল পানিতে ডুবে রয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাথে লাগানো কাটাতারের বেড়া ও গাইডওয়াল ধসে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে এসব এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় কক্সবাজার সদরের পিএমখালী, ঈদগাঁও এলাকার পোকখালী, ভারুয়াখালী, গোমাতলী, ইসলামপুর, পেকুয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, উখিয়ার জালিয়াপাড়া, ইনানী, টেকনাফের সাবরাং, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, মহেশখালী, কুতুবদিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয় পড়েছে।

কক্সবাজার ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সোলতান জানান, সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী নদীর পানি বিপদ সীমা সেকোন মূহূর্তে অতিক্রম করে বন্যায় কবলিত হতে পারে। ইতিমধ্যে বাঁকখালী নদীতে পানি বেড়েছে বহুগুন। আশপাশের বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেঙে গেছে অনেক রাস্তাঘাট। অব্যাহত বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি এলাকার লোকজনসহ সবাই প্রয়োজনী মালামাল, গবাদিপশু, আসবাবপত্র ও খাদ্য সামগ্রী নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করেন এই চেয়ারম্যান।

কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য ও ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি ঢলে আমার বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। বর্তমানে বাড়ির ভিতরে হাঁটু পরিমাণ পানি।

তিনি জানান, ঈদগাঁও পূর্ব ফরাজী পাড়ায় ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ ও রাস্তাঘাট। মধ্যম পোকখালীর ৩নং ওয়ার্ড মৌলভী নাছির আহমদের বাড়ির পাশেও নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে। এতে ডুবে গেছে অনেক বসতবাড়ি। বৃহত্তর ঈদগাঁও বাজারও ডুবে গেছে পানিতে।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল রাশেদ বলেন, আমার এলাকার প্রায় ৪০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। শুকনো খাবার ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।

অন্যদিকে মহেশখালী কেরুনতলীতে পাহাড়ি ঢলে দোকান ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। ভেঙে গেছে রাস্তাঘাটও। কেরুনতলীর প্রধান সড়ক ভেঙে বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। মহেশখালীর হোয়ানক ও ধলঘাটও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানির স্রোতে ভেঙে গেছে রাস্তাও।

কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুচ্ছফা বলেন, ২০ গ্রামের মানুষ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে এসব গ্রামে। এসব গ্রামের মানুষের জীবন জোয়ার-ভাটায় ভাসছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাংবারাংয়ের বেশ কয়েকটি গ্রামের অন্তত সাত শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে প্রশাসনের মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ভেঙ্গে গেছে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজার সদরের বেড়িবাঁধের ৮০টি পয়েন্ট। বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢোকার কারণে বেড়েছে পানির উচ্চতা।

অতিরিক্ত ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসৌদ্দজা নয়ন বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে কিছু ক্যাম্প প্লাবিত হয়েছে। তবে কয়টি ক্যাম্প প্লাবিত হয়েছে তা জানতে সময় লাগবে। বিচ্ছিন্ন কিছু পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া দপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের কারণে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। গেল ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজারে ১১৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটতে পারে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে আরোও পাহাড় ধসের আশঙ্কাও করছে প্রশাসন। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে চলে যেতে প্রশাসনের পক্ষে মাইকিং করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন :
পানিতে ডুবে সুনামগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হাতীবান্ধায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত এক

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

লাশ উদ্ধার কক্সবাজার সমুদ্রে ভাসছিল অজ্ঞাত তরুণের মরদেহ

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

করোনায় দুইজনের প্রাণহানি ফরিদপুর করোনায় দুইজনের প্রাণহানি

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন