🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

শিশু শিক্ষার্থীরা যখন ক্রেতা-বিক্রেতা!

Bhola news
❏ বুধবার, জুলাই ২৮, ২০২১ বরিশাল

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক – রাস্তাঘাটে অস্থায়ী পসরা সাজিয়ে মুখরোচক খাবার বিক্রি করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। শিশুরা এসব পসরাকে দোকান বলে মনে করেন। তাদের ভাষ্য মতে এ দোকানগুলোর ক্রেতাও শিশু।

গত সোমবার বিকালে চরফ্যাসন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চরমানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান রাস্তায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

রাস্তার পাশে অস্থায়ী পসরা সাজিয়ে বসেছে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. মনির হোসেন। সে জানিয়েছে, আমড়া, আচারসহ শিশু খাদ্য বিক্রি করেন। আজ ১শ’ ২০টাকার খাবার বিক্রি করছেন।

শিশু মনিরের মতো সাব্বির, শাকিল এমন দোকান সাজিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ মূহুর্ত পর্যন্ত মুখরোচক খাবার বিক্রি করেন। সেখানে এসব খাবার কিনতে ভিড় করেন শিশু ক্রেতারা।

করোনা মহামারীতে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়ছে। ফলে শিশুশ্রমের দিকে ঝুঁকছে শিশুরা। নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ও খেলাধুলা করে ব্যস্ত সময় কাটানোর পরিবর্তে তাদের সময় কাটছে খাবার বেচাকেনায়। এতে অবিভাবকরা শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত।

স্থানীয় কোমলমতি শিশু সিয়ামের বাবা সেলিম রানা জানান, ‘শিশুদের ঘরবন্দি করে রাখা যাচ্ছে না। অন্য শিশুদের কর্মকান্ড দেখে আমার শিশুও একই পথে এগুচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনা ভুলে গেছে। এদের ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করলে শিশুরা অন্ততঃ মূর্খ থাকবে না।’

দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম জানান, ‘গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। করোনা মহামারীতে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। অবিভাবকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি যেন, শিশুদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।’

চরফ্যাসন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৃষিত কুমার চৌধুরী জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমনের হার শূন্য কোঠায় আনতে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। শিশু শিক্ষার্থীরা এ ভাইরাসের দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন