🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ১৪ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ, হাঁকডাকে সরগরম মৎস্যঘাট

fish 5234
❏ বুধবার, জুলাই ২৮, ২০২১ বরিশাল

এসআই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক- জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। ভোলার চরফ্যাসনের মৎস্যঘাটগুলোতে জেলে ও পাইকারদের হাঁকডাকে এখন সরগরম। স্থানীয় মৎস্য আড়তগুলোতে দিন-রাত চলছে কর্মযজ্ঞ।

চরফ্যাসনের বড় মৎস্যঘাটগুলো হলো সামরাজ, বেতুয়া, নতুন স্লুইসগেট, খেজুরগাছিয়া, ঢালচর, বকসীরঘাট, ঘোষেরহাট, চরকচ্ছপিয়া ও কুকরি মুকরি।

চরফ্যাসন উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার জেলে রয়েছে। উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৪ হাজার ২শ’ ৮১জন। অনিবন্ধিত জেলে রয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার। এসব জেলেরা নদী ও সাগরে মাছ শিকার করে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ জেলে সামরাজ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ বিক্রি করেন।

ভরা মৌসমে প্রতিদিন সাড়ে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার ইলিশ মাছ বিক্রি হয় সামরাজ মৎস্যঘাটে। বৃহত এ মৎস্যঘাটসহ উপজেলার মৎস্যঘাটগুলো থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার ইলিশ বিক্রি হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চরফ্যাসন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার।

বুধবার সকালে কয়েকটি মৎস্যঘাট ঘুরে দেখা গেছে, কেউ ট্রলার থেকে ঝুড়িতে করে মাছ নিয়ে আসছে। কেউ আবার পাইকার ডাকছে, কেউ মাছ ক্রয় করে মোকামে যাচ্ছেন। তবে মাছের আড়তে ক্রেতা-বিক্রেতা ও জেলেদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই ছিল না। কাকডাকা ভোর থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয় এসব ঘাটে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি বেচাকেনা হয় ইলিশের। এখানে ইলিশের পাশাপাশি কাউয়া, ঢেলা, লইট্টা, পোয়া, জাবা কই, মেইদ, টেংরা, রূপচাঁদাসহ প্রায় ২৫ প্রজাতির মাছ বিক্রি হয়। সাগরের ইলিশের থেকে নদীর ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি।

ইলিশের হালি বড় সাইজ ৩৫শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা। মাঝারি ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা। ছোট সাইজ ১৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঢালচর মৎস্য ঘাটের আড়তদার নজরুল জানান, ‘গত শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও বৈরী আবহাওয়া ও বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ থাকার কারণে উপকূলের জেলেরা চারদিন ধরে গভীর সমুদ্রে যেতে পারেনি। দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞার ফলে আগের চেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়বে সমুদ্রে, এমন প্রত্যাশা নিয়ে আজ গভীর সমুদ্রে রওনা দিবে জেলেরা।’

সামরাজ ঘাটের জেলে মিলন মাঝি (৫৬), ফারুক মাঝি (৪৫) বলেন, ‘আগের চেয়ে নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে। আগের ধার-দেনা কিছুটা শোধ হচ্ছে। ইলিশ আরো একটু বেশি পাইলে আরো ভালো হইতো।’

চর কুকরি-মুকরি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানান, ‘কোরবানি ঈদের দুইদিন আগে থেকে নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে ইলিশ মাছ পাওয়ার আশায় দিন-রাত উত্তাল নদীতে ভেসে থেকে দেনার বোঝা ভারী করে শূণ্য হাতে ঘাটে ফিরছে জেলে ট্রলারগুলো। গত সপ্তাহের মত ইলিশ ধরা পড়লে জেলেদের দেনার বোঝা কিছুটা হালকা হবে।’

চরফ্যাসন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার জানান, ‘অতিমাত্রায় লবনাক্ত পানির কারনে জুন মাসের শুরু থেকে জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত উপকূলীয় নদ-নদীতে ইলিশ মাছের বিচরণ কম ছিল। বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদীতে লবনাক্ততা কমেছে। এতে নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর চরফ্যাসন উপজেলায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৭ হাজার মেট্রিক টন। ২৩ জুলাই থেকে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। আশাকারা যায় ইলিশ উৎপাদনের এ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন