• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

চাঁদপুরে মৃত্যুর মিছিল: ৮ ঘণ্টায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০ জনের মৃত্যু

Chadpur news
❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৯, ২০২১ চট্টগ্রাম

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি আবারো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।  ৮ ঘণ্টায় চাঁদপুরে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।এদের মধ্যে ৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। বাকি ৬ জন করোনা উপসর্গ সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হন।

বুধবার দিবাগত রাত ১০ টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টা পর্যন্ত এই ৮ ঘন্টায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০ জন রুগী মারা যান।

এছাড়াও, ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে জেলায় মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই সময় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৩৯ জন। যা গত এক সপ্তাহের নমুনার পুরো রিপোর্টের সমপরিমাণ।

মৃতরা হলেন চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদীর আমেনা বেগম (৬৫), একই এলাকার জলিল খন্দকার (৬৫) বাবুরহাটের শাহজাহান খান (৬৮), সদর উপজেলার দাসদী গ্রামের নূরজাহান বেগম (৬৫), সফরমালীর আব্দুল জাব্বার (৭০), কামরাঙা গ্রামের আব্দুর রব (৯৫), ফরিদগঞ্জ উপজেলার একতাবাজারের খুকি বেগম (৫৫), হর্ণিদূর্গাপুর গ্রামের মো. নিজামউদ্দিন (৫৫), মতলব দক্ষিণ উপজেলার মুন্সিরহাটের আবুল বাসার (৬০), নারায়ণপুরের ইসহাক সরকার (৪৮), মতলব উত্তরের নাউরী গ্রামের রুহুল আমিন (৫৫) এবং কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম (৬০)।

জানা গেছে, এদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান এবং কচুয়ার মনোয়ারা বেগম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা পরীক্ষা দিতে লাইনে দাঁড়িয়েই মারা যান।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাদের সবার শারীরিক অবস্থা বেশ জটিল ছিল। এসব রোগীর অক্সিজেনের সেচুরেশন এতো নিচে ছিল যে, তা রিকোভার করা সম্ভব ছিল না।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, এই প্রথম গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার মধ্য রাত পর্যন্ত ২৩ জন করোনায় মারা যান।

এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও তাতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে না। এতে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারের চরম গাফিলতি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এখনই যদি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে প্ল্যান্টটি চালু করা হয়, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি এবং আশঙ্কাজনক করোনা রোগীদের জীবন রক্ষা করা সহজ হবে।

এদিকে, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ চাঁদপুর শহর ও ৮ উপজেলায় করোনার বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন