• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

জামালপুরে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন, বিলীন বসতবাড়ি

river 6523
❏ শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১ ময়মনসিংহ

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে মেলান্দহে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে দিন দিন বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী মানুষ।

গত এক মাসের ভাঙনে প্রায় এক কিলোমিটার বিলীন হয়েছে। নদের গর্ভে চলে গেছে অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি, ঈদগাহ মাঠ, বাগান ও ফসলি জমি। এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে অর্ধশত বাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।

মেলান্দহ উপজেলা শ্যামপুর ইউনিয়নের গোবিন্দী এলাকার লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল সেতুর পাশে এ ভাঙন শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন কবলিত লোকজন তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। কেটে নিচ্ছেন বাগানের গাছপালা। এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়। গত বছর ভাঙনে বিলীন হয়েছে ঈদগাহ মাঠ, ফলের বাগান ও ফসলি জমি। চলতি বছরও গত এক মাসে ভাঙনে আরও ১৫টি ঘর, ফসলি জমিসহ বাগান বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙন কবলিত গোবিন্দী গ্রামের আব্দুল সালাম বলেন,এক মাস ধরে ভাঙন চলছে। ঘরবাড়ি সবকিছু নদে চলে গেছে। আমরা এখন নিঃস্ব। নদের পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙন আরও বাড়বে।’

একই এলাকার আসলাম হোসেন নামের এক যুবক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের জমিজমা, কাঠবাগান, ঈদগাহ মাঠ সবকিছুই ভেঙে গেছে। এখন বসত-বাড়ি ভাঙতে শুরু হয়েছে। আমরা সাংসদের কাছে আবেদন করেছি। সরকারও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। রাতে বৃষ্টি হলে ঘুমাতে পারি না, কখন ঘরটা ভেঙে যায়। বসতবাড়ি ভেঙে গেলে ঘর তোলার আর জমি নেই।

গোবিন্দী এলাকার ইউপি সদস্য মো. বালাম খান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বসত-বাড়ি, ফসলি জমি, গাছের বাগান, ঈদগাহ মাঠসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অনেকেই দিন কাটাচ্ছেন। বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে না পারলে আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে।’

শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাতুজ্জামানের ছেলে মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘গোবিন্দী এলাকায় ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়ে অন্য গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। দ্রুত ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই গ্রামের ঘরবাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হবে।

এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ফসলি জমি কিছুটা ভাঙবেই যেহেতু নদীর তীরে। ভাঙন দেখে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কথা শুনে আমি জায়গাটি গিয়ে দেখে এসেছি। ভাঙন রাস্তার দিকে চলে এসেছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। আমি জেলা সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি তুলে আলোচনা করব।

আরও পড়ুন :
Jamalpur new বাড়ি ভিটার জমির জন্য মরলেন দুই ভাই

❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

Mymensing news ঘুষ লেনদেন, এএসআই প্রত্যাহার

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন