• আজ বুধবার, ৭ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

ভয়ংকর ‘সাকার ফিশ’

fish 52343
❏ শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১ ফিচার

কামরুজ্জামান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টার- ‘সাকার ফিশ’ মাছটি অ্যাকুয়ারিয়ামের শোভাবর্ধক। বিদেশি প্রজাতির ক্ষতিকর এই মাছটি বর্তমানে উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ায় আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। ধীরে ধীরে সব মাছ খেয়ে সাবাড় করে ফেলছে।

ভয়ংকর মাছটি নিয়ে মৎস্য চাষীদের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। এটির ব্যাপক বিস্তার ঘটলে দেশীয় প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে পড়বে। ফলে দ্রুত এই মাছ নিধন করা জরুরি বলে মনে করছেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা।

এর আসল নাম সাকার মাউথ ক্যাটফিস। তবে সাকার ফিশ নামেই অধিক পরিচিত। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম হিপোসটোমাস প্লেকোসটোমাস। এর শরীর অনেক খসখসে ও ধারালো। পাখনাগুলোও অনেক ধারালো। ১৬-১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হওয়া এই মাছটির রং কালো শরীরে হলুদ ছোপ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) সূত্রে জানা যায়, দেশের শতকরা ২২ ভাগ মাছ উৎপাদন হয় ময়মনসিংহ জেলায়। আগে সবসময় নদী থেকে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ পাওয়া গেলেও এবার অপরিচিত ‘সাকার ফিশ’ ধরা পড়ছে অনেকের জালে।

এছাড়া উন্মুক্ত জলাশয়ে বাড়ছে এই মাছ। মিঠাপানির এই মাছটির আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। বিশেষত ব্রাজিলে অ্যামাজন অববাহিকায় এই মাছ প্রচুর পাওয়া যায়।

তবে, সম্প্রতি ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, যশোর, সিলেট খুলনাসহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) জলাশয়গুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ময়মনসিংহে অবস্থিত মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পুকুরেও দেখা গেছে এই সাকার ফিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হল সংলগ্ন লেক ও পাশের জলাশয়ে অনেক বেশি দেখা মিলছে। অনেকেই নদী বা জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে দেখা পাচ্ছে ভয়ংকর এই সাকার ফিশের।

আরও জানা যায়, এই মাছ প্রচুর খাদ্য গ্রহণের ফলে জলাশয়ের অন্য মাছ খাদ্য সংকটে পড়ে। এছাড়া এই মাছের আঘাতে অন্য মাছের শরীরে ঘা ও পঁচন ধরে ইনফেকশন হয়ে যায়। আক্রান্ত মাছগুলো খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। এতে মাছগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সেগুলো মারা যায়। ফলে সাকার ফিশের উপদ্রবে অনেক মৎস্য খামারি পথে বসে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জুলফিকার আলী সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, সাকার ফিশ উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ায় জলজ পোকামাকড় ও শেওলার পাশাপাশি ছোট মাছ এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা খেয়ে শেষ করে দিচ্ছে। এটি চিংড়ি, কালি বাউস, মাগুর ও শিং মাছসহ ছোট শামুক জাতীয় শক্ত খোলের প্রাণী খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। এটি দ্রুত বংশবিস্তার করায় জলাশয়ের দেশীয় মাছগুলো এখন হুমকির মুখে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালের দিকে এই মাছটির জীবনীশক্তি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেই। এজন্য একটি ড্রামে অল্প পরিমাণে পানি ডেলে সেখানে ছোট একটি ‘সাকার ফিশ’ ছেড়ে দিই। এভাবে খাদ্য না দিয়ে দেড় বছর রেখেছি। কোনো ধরণের খাদ্য ছাড়াই দেড় বছর মাছটি বেঁচে ছিল। এতে প্রমাণিত হয়, মাছটির জীবনীশক্তি অনেক বেশি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহা আলী সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, অনেকেই এই মাছটি শুরুর দিকে অ্যাকুরিয়াম ফিশ হিসেবে পালন করলেও পরবর্তী সময়ে এটি বড় হয়ে গেলে পুকুর বা ডোবায় ছেড়ে দেয়। সেখানে এটি নতুন পরিবেশে খাপ খেয়ে বংশ বিস্তার শুরু করে। এছাড়া বন্যার সময় বিভিন্ন নদ-নদীর পানির সাথে এই মাছটি বিভিন্ন পুকুরে চলে আসে এবং বংশ বিস্তার করে। এদের মধ্যে লাফানোর প্রবণতা থাকায় এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি খেতে সুস্বাদু না হওয়ায় সাধারণত কেউ খায় না এবং বাজারেও এর চাহিদা নেই।

এই মাছের বিস্তার রোধ সম্পর্কে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরও বলেন, এটি জলাশয়ের একেবারে নিচের স্তরে থাকে। ফলে এটি খুঁজে খুঁজে সরিয়ে ফেলার কাজটি খুবই কঠিন। যে জলাশয়ে মাছটি থাকবে সেটি একেবারে শুকিয়ে ফেলতে হবে। কোথাও মাছটি পাওয়া গেলেই সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ধ্বংস করতে হবে। এছাড়া ‘সাকার ফিশ’ ধরার পর শুকিয়ে অন্যান্য মাছ ও পশুপাখির খাবারও তৈরি করা যায়।

আরও পড়ুন :
স্বাস্থ্যের তিন হাজার পদে নিয়োগ বাতিল

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

করোনায় শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে, মৃত্যু ২৬

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

evaly n34 ইভ্যালির রাসেল আবার একদিনের রিমান্ডে

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

pm n34n এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন