• আজ শুক্রবার, ২ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

গাজীপুর শ্রীপুরে ছাত্রলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার-৫

Gazipur news
❏ রবিবার, আগস্ট ১, ২০২১ ঢাকা

শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদুল আজহার রাতে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ মাসুম আহাম্মেদ জমি সংক্রান্ত বিরোধেই হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ পর্যন্ত এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার ও এদের মধ্যে এক আসামী হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

রোববার (১লা আগষ্ট) পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুর জেলার পরিদর্শক মোহাম্মদ কাওছার উদ্দিন জানান, ছাত্রলীগ নেতা মাসুম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় মৃত হাবিবুল্লাহ্ ক্বারীর ছেলে মো: আবুল কালাম (৪১), মো: শামসুদ্দিন এর ছেলে মো: শফিকুল ইসলাম (৩২), মো: আব্দুল জলিলের ছেলে মো: নাজির হোসেন জয় (২৯), মো: আব্দুর রশিদের ছেলে মো: সাইফুল ইসলাম (৪০), মো: আজহারুলের ছেলে মো: হারুন অর রশিদ (৩৮)। আসামীরা সকলেই গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার বেড়াইদেরচালা গ্রামের বাসিন্দা।

মো: আবুল কালাম, মো: শফিকুল ইসলাম ও মো: নাজির হোসেন জয়কে বুধবার (২৮জুলাই), সাইফুল ইসলামকে শুক্রবার (৩০জুলাই) পিবিআই বেড়াইদেরচালা এলাকা থেকে ও হারুন অর রশিদকে জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১।

নিহত সৈয়দ মাসুম আহাম্মদ (২৭) একই গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। সে শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিল ও উত্তরার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

পরিদর্শক মোহাম্মদ কাওছার উদ্দিন জানান, গত ঈদুল আযহার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত মাসুমের বাড়ির প্রত্যেকটি ঘরে বাহির দিয়ে সিটকারি আটকিয়ে তার ঘরের তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে। মাসুম বাড়ির ভেতর প্রবেশ করা মাত্রই দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর ও মাথায় আঘাত করে। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশী এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় মাসুমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে বৃহস্পতিবার (২২জুলাই) সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২৩জুলাই) সকাল সোয়া ৮টায় মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মাসুমের চাচা মোঃ মোফাজ্জল হোসেন শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন মামলাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে উল্লেখিত আসামীদের পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানান, ঈদুল আযহার দিন দিবাগত রাত দেড়টায় আসামী কালাম তার সহযোগী আসামীদের সাথে স্থানীয় একটি কারখানায় ইলেকট্রিক তার চুরি করতে যায়। কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী সজাগ থাকায় ওই রাতে তাদের সেই চুরির পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় মারুফ ও জহিরদের সাথে মাসুমের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে মারুফ ও জহিরদের নির্দেশে আসামী কালাম এবং তার সহযোগীরা ঈদের দিন রাতে মাসুম বাসায় না থাকার সুযোগে রাত পৌনে তিনটার দিকে তার কক্ষের তালা ভেঙ্গে বিবাদমান সম্পত্তির মূল কাগজপত্র চুরির জন্য বাড়িতে প্রবেশ করে। রাত তিনটার দিকে মাসুম বাড়িতে এলে আসামীরা দৌড়ে পালানো চেষ্টা করলে একজনকে ধরে ফেললে বাকী আসামীরা ইট দিয়ে মাসুমের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। এসময় মাসুম চিৎকার দিলে আসামীরা তিন জোড়া স্যান্ডেল ও দুটি ছাতা রেখে ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামী কালাম ও তার সহযোগী অন্যান্য আসামীরা প্রত্যেকেই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া স্যান্ডেল ও ছাতা সনাক্ত করে। এছাড়াও পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদকালে অন্যান্য আসামীরা ও ঘটনার সাথে জড়িত আছে বলে স্বীকার করে।

মূলতঃ জমির মূল কাগজপত্র চুরি করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করলে আসামীদেরকে চিনে ফেলায় ভিকটিম মাছুমকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে। গ্রেফতারকৃত মোঃ আবুল কালামকে শনিবার (৩১জুলাই) আদালতে হাজির করা হলে সে নিজেকে ঘটনার সাথে জড়িয়ে অন্যান্য আসামীদের নাম উল্লেখ করে স্বেসচ্ছায় ফৌঃকাঃবিঃ এর ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। অন্যান্য আসামীদের কে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে ।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন