লকডাউন আর না বাড়ানোর চিন্তা


❏ সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- চলমান কঠোর লকডাউন ৫ আগস্টের পর আর না বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এর পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে এবং গ্রামে গ্রামে গণটিকা কর্মসূচি চালানো হবে। সরকারের সংশ্নিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

কঠোর লকডাউনের কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকার চলমান কঠোর লকডাউন আপাতত না বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে টিকা সরকারকে ভরসা জোগাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে গণটিকা কর্মসূচি চালাতে আর সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আগামী বুধবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে ওই সূত্র জানায়। তবে কভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি চলমান কঠোর লকডাউন আরও বাড়ানোর পক্ষে মতামত দিয়েছে। কারণ সংক্রমণ ও মৃত্যু এখন পর্যন্ত কমেনি। একই সঙ্গে ব্যাপক ভিত্তিতে গণটিকা কার্যক্রম চালানোরও পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশে লকডাউন দিয়ে তা বাস্তবায়ন করা খুব মুশকিল। দেখলেন তো মাঠে আর্মি নামিয়েও কাজ হচ্ছে না। মানুষ বাইরে আসছেই। কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না।’

আরেক কর্মকর্তা বললেন, ‘আমাদের মতো অর্থনীতির দেশে দিনের পর দিন এভাবে সব বন্ধ রেখে চলা সম্ভব নয়। অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়ার মতো চ্যালেঞ্জ নেয়ার ক্ষমতা এখনও আমাদের নেই। এটা বাস্তবতা। মানুষকে কাজের সুযোগ দিতে হবে, আয়ের সুযোগ দিতে হবে। নতুবা পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারে।’

নিম্নবিত্ত কিছু ত্রাণ পেয়ে কোনো রকম চললেও মধ্যবিত্তের অবস্থা নিয়ে সরকার বিচলিত বলেও জানান এই দুই কর্মকর্তা।

অর্থনীতি যে সরকারের মাথাব্যথার বড় কারণ, তার প্রমাণ মিলেছে চলমান লকডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে। ফলে ঢাকামুখী হয়েছেন শ্রমিকরা। তাদের ভোগান্তি কমাতে খুলে দেয়া হয়েছে গণপরিবহন ও নৌযান। তবে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এতে করোনা সংক্রমণ আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউন বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রোববার বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই কঠোর বিধিনিষেধ চলমান থাকবে। ঊর্ধ্বমুখী করোনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ অবশ্যই থাকতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার মধ্যে সরকারের জীবন-জীবিকার ব্যালেন্স করতে হচ্ছে। সরকারের সব দিকে নজর রয়েছে। ব্যালেন্স সব সময় ঠিক রাখা যায় না। বিশ্বের অনেক দেশে লকডাউন খুলে দেয়া হয়েছিল। আবার তারা লকডাউন দিয়েছে।’

প্রতিদিন দুই শর বেশি লোক মৃত্যুবরণ করছে, ১০ হাজারের বেশি লোক আক্রান্ত হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই সংক্রমণ আমরা কমিয়ে আনতে চাই। তবে যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানি, তাহলে এটি কমিয়ে আনা সম্ভব নয়।’

করোনার এই পরিস্থিতির মধ্যেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের যুক্তি, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিমানুষকে সচেতন হতে হয়। সে ক্ষেত্রে লকডাউন না দিয়েও সেটা সম্ভব।

বিভিন্ন উৎস থেকে টিকার জোগান নিশ্চিত হওয়ায় সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের একটু সুবিধা হয়েছে বলে মনে করেন এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সিরাম চুক্তি অনুযায়ী টিকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার ঝামেলায় পড়ে গিয়েছিল। তবে এখন নানা উৎস থেকে টিকার সংস্থান করতে সরকার সফল হয়েছে। আর টিকা প্রয়োগ হলে করোনার ভয়াবহতা অনেকাংশে কমে আসবে।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন