🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ১৪ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

কক্সবাজারে ভয়াবহ নদী ভাঙন, বিলীন হতে পারে শতাধিক হেক্টর ভূমি

Cox's Bazar news
❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ৩, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারে বন্যার পর বানভাসি মানুষের জন্য মরণকামড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নদী ভাঙন। বন্যায় ফসল, বাড়িঘর-স্থাপনার ক্ষতি হয় কিন্তু সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা দেখা দেয় না। কিন্তু নদী ভাঙন মুহূর্তেই সম্পন্ন গৃহস্থকে ফকির বানিয়ে দেয়। বলা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে সর্বনাশা হলো নদী ভাঙন।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনে বিলীন হচ্ছে নদ-নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদ। ভাঙন আতঙ্কে ভিটেমাটি ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছেন বানভাসিরা।

কক্সবাজার সদর ও রামু এবং চকরিয়ায় বাঁকখালী মাতামুহুরি নদীর ভয়াবহ ভাঙন নতুন করে শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে এখন পর্যন্ত কোন উদ্দ্যেগ নিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সদরেও বাঁকখালী নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি। টানা বর্ষণ ও দু’তিন দিনের বন্যায় অর্ধ শতাধিক বসতভিটা ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ খরুলিয়া চেয়ারম্যান পাড়া, পূর্ব মুক্তারকুল, পশ্চিম মুক্তারকুল, মুহুরীপাড়া ও চান্দের পাড়ায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। বন্যার পর বাঁকখালী নদীতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

গত ৩ দিনে জেলার তিন উপজেলায় অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাঁকখালী এবং মাতামুহুরি নদীর ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, রাস্তা, আবাদি জমিসহ নানা স্থাপনা। বাঁধ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও তেমন কাজে আসছে না। প্রতি বছরই বন্যার পর ভাঙন শুরু হয় বাঁকখালী নদীর অংশে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাঙনের ফলে জেলার রামুর চাকমারকুল, উমখালী, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, রাজারকুল, গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া এলাকায় সর্বস্বান্ত হয়েছে কয়েক’শ মানুষ। নদী ভাঙন এযাবৎ জেলার অন্তত অর্ধ লাখ মানুষকে রাস্তায় নামিয়েছে। একসময় যাদের ঘরবাড়ি সব ছিল তারা সর্বহারায় পরিণত হয়েছে নদী ভাঙনের অভিশাপে। নদী ভাঙন রোধে প্রতি বছরই বাঁধ নির্মাণে শত শত কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু ব্যয় করা অর্থের সিংহভাগই আত্মসাৎ হয় পানি উন্নয়ন বার্ডের লুটেরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারসাজিতে এমনই অভিযোগ উঠেছে।

রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পুর্ব বোমাংখিল এলাকার আমেনা বেগম জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও মাথা গোঁজার মতো নিজের একটা ঘর ছিল তার। বন্যার পানিতে গত সপ্তাহে তার ঘর ডুবে যায়। তখনো তিনি ভাবতে পারেননি সামনে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে। গত বুধবার বাঁকখালীর ভাঙনে তার ঘর বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব অবস্থায় আপাতত পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার থেকে সেখানেও ভাঙন শুরু হয়েছে। ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে এখন কোথায় উঠবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।

শুধু আমেনা বেগম নয়, একই এলাকার তানজিদ রায়হান, সাবেকুন্নাহার ও রোকেয়া বেগমসহ অসংখ্য লোকের মাথাগোঁজা ঠাঁই কেড়ে নিয়েছে বাঁকখালী। রামু উপজেলার গর্জনিয়া কচ্ছপিয়ায় এ বছর নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে। গত ৫/৭ বছর ওই দুই ইউনিয়নে ভাঙন কমছিল। তবে ২০১৯ সাল থেকে আবার ভাঙন শুরু হয়। ওই বছর প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা বাঁকখালীর বুকে চলে যায়। সেখানে তেমন কোন উদ্দ্যেগ নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

জানা গেছে, রামু ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ভাঙনরোধে শতাধিক কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেয় সরকার। যে কারণে গত বছর দুয়েক সেখানে কোনো ভাঙন হয়নি। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে সেই ঝিলংজার পশ্চিম মুক্তারকুলে আবারও ভাঙনের মুখে পড়েছে। রামু ও সদর উপজেলার ছয়টি এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে সিসি ব্লক সরে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বাঁকখালীর পাড় ধরে এক কিলোমিটার এলাকায় নির্মাণ করা প্রতিরক্ষা অবকাঠামোও ভাঙনের মুখে পড়েছে। এর প্রায় ৩০০ মিটার অংশের ব্লক সরে যাচ্ছে।

এ মুহূর্তে ভাঙন রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে আমরা ইতিমধ্যে পরিদর্শন করে দ্রুত একটা রিপোর্ট পাঠিয়েছি। অনুমদন পেলে ওইসব এলাকাগুলোতে কাজ শুরু করবো। ভাঙন ঠেকাতে দিন–রাত কাজ চলছে।

ফলে নদী ভাঙন রোধে যে বাঁধ নির্মাণ করা হয় তার অস্তিত্ব বালির বাঁধের মতো ধসে পড়ে। নদী ভাঙন রোধে খাল-নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। নদীতীরের অধিবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিকভাবে নদীর তীর সুরক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করা গেলে প্রতি বছর এ খাতে যে কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে তা রোধ করা সম্ভব হবে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন