• আজ শনিবার, ৩ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে হাজারো বসতবাড়ি বিলীনের শঙ্কা

অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে
❏ বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি:

মৌসুমের প্রথম পাহাড়ি ঢলে দু’ইউনিয়নের সংযোগ সেতুর পিলারসহ দুটি গার্ডার স্প্যান তলিয়ে যাবার একমাসের মাথায় ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীর জালালাবাদ ফরাজীপাড়া অংশের বাঁধ কাম ব্রিকসলিং উপসড়কের প্রায় আড়াইশ’ মিটার নদীগর্ভে ধসে গেছে।

এতে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন, জালালাবাদ-পোকখালী পাকা সড়ক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি সামাজিক মসজিদ, কবরস্থান, একটি হেফজখানা, তিনটি নূরানী মাদ্রাসা, একটি বেসরকারি পাবলিক স্কুল এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বাড়িসহ তিন শতাধিক ঘরবাড়ি।

বাঁধের সাথে ইতোমধ্যে নদীর বুকে চলে গেছে বাঁধ রক্ষায় সৃজিত শিবা বাঁশের সারি। তাই ভাঙ্গনরোধে পলিথিন দিয়ে স্রোতের ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছেন এলাকাবাসী। এরপরও মাঝারি বেগে ঢল নামলেও যেকোন মূহুর্তে বাঁধের বাকি অংশ তলিয়ে গিয়ে ঘরবাড়িসহ পুরো এলাকা প্লাবিত হবার আশংকায় উদ্বিগ্ন রয়েছে স্থানীয়রা।

গত ১ আগস্ট (শনিবার) কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ফরাজীপাড়া মাস্টার মোজাম্মেল ফরাজী বাড়ি অংশের বাঁধে এ ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ডা. সাজ্জাদ কাশেম ও কামরুল হাসান বায়েজীদ জানান, গত সপ্তাহের টানা বর্ষণে জেলার অন্য নদীর মতো ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীতেও তীব্র বেগে ঢল নামে। ঢলের স্রোত তোড়ে ফরাজীপাড়া সিএনজি স্টেশন ও পোকখালী বাজার ব্রীজের ৮০-৯০ মিটার উত্তরে ফরাজীপাড়া, পূর্ব ফরাজীপাড়াসহ আশপাশ এলাকার অন্যতম চলাচলের ১৫ ফুট সড়ক কাম বেধিবাঁধের মাঝখান হয়ে প্রায় ২৫০ মিটার নদীতে ধসে গেছে।

এসময় বাঁধের সাথে থাকা শিবা বাঁশের বাগানও নদীর বুকে চলে গেছে। অবশিষ্ট থাকা মাত্র দেড়-দু ফুট মতো বাঁধ পলিথিন দিয়ে স্রোত থেকে রক্ষার চেষ্টা চলছে। বাঁধের কিনার ঘেষে অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মোজাম্মেল ফরাজী, দিল মোহাম্মদ ফরাজী, সাবেক চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ ফরাজীর বাড়িসহ কয়েক গোষ্ঠীর তিনশতাধিক বসতি রয়েছে।

স্থানীয় আমান উল্লাহ, শাহীন ফরাজী, কামাল উদ্দিনসহ অনেকে জানান, বাঁধটি যে অবস্থায় রয়েছে সামনে মাঝারি ভাবেও যদি একটি ঢল নামে তাহলে এটি বিলীন হয়ে পুরো এলাকার ঘরবাড়ি তলিয়ে যাবে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়বে ধানের গোলা, সহস্রাধিক গবাদিপশু, অসংখ্য পুকুর। ভাঙ্গনের কবলে পড়লে ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন, জালালাবাদ-পোকখালী পাকা সড়ক, বাহারছরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফরাজী পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও পূর্ব ফরাজীপাড়া জামে মসজিদ, কবরস্থান, মরহুম জালাল ফরাজী হেফজখানা ও নূরানী মাদ্রাসা, জালালাবাদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজও ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফরাজীপাড়া বৃটিশআমলের পুরোনো গ্রাম। এখানকার বাঁধে কখনো ভাঙ্গন হয়নি। এলাকাবাসী বাঁধ রক্ষায় তীরে শিবাবাঁশসহ নানা প্রকারের গাছ রোপন করে। কিন্তু গত বছর দেড়েক সময় পুরো ঈদগাঁও নদী থেকে জালালাবাদ চেয়ারম্যানসহ বৃহত্তর ঈদগাঁওর একটি সিন্ডিকেট নির্বিচারে অপরিকল্পিত ভাবে বালু তুলেছে। নৌকায় ড্রেজার বসিয়ে রাত-দিন বালু তোলার পাইপ অধিকাংশ সময় তীরের কিনারেই লাগানো থাকতো। ফলে নদীর অনেকাংশে তীর এলাকা গর্ত হয়ে রয়েছে। আর ঢলের স্রোতে সেসব গর্তের কারণে গাছসহ বাঁধ নদীর বুকে ধসে যাচ্ছে। বাঁধের এ অংশের আধা কিলোমিটার পূর্বে একই কারণে গত ১ জুলাই মনজুর মৌলভীর দোকান এলাকার ‘পোকখালী-জালালাবাদ’ সংযোগ ব্রীজের মাঝের দুটি গার্ডার পিলারসহ ঢলে নদীতে তলিয়ে যায়।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নুরুল আলম বলেন, ঢলে বাঁধ ধসে যাবার বিষয়টি কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও বাঁধের ভেতর অংশের এলাকাটি নিচু প্রকৃতির। ফলে ঢলে ভাঙ্গনের কবলে পড়লে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হবার আশংকা রয়েছে। তলিয়ে যাবে ইউনিয়নের বাহারছরা, মোহনভিলা, পালাকাটা, খামারপাড়াসহ ২০-২৫টি গ্রাম ও ধমকাবিল। এলাকার শত শত বাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ প্রাণহানি রদে দ্রুত বাঁধ মেরামত জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমরুল রাশেদের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান ওসমান সরোয়ার ডিপো বলেন, এ বছরের বর্ষা শেষ হতে হতে ১৫ কিলোমিটার নদীর অধিকাংশ তীর ভাঙ্গনের কবলে পড়তে পারে বলে আমাদের সবার আশংকা। চেয়ারম্যানসহ একটি সিন্ডিকেটের লোভের মাসুল দিতে হচ্ছে নদীর দুপারের বাসিন্দাদের। নদীর ঈদগড় হতে পোকখালীর অংশে অপরিকল্পিত ভাবে হুলুস্তুল বালু তোলা হয়েছে। বাদ যায়নি ব্রীজের নিচের অংশও। ফলে গত ১ জুলাই প্রথম ঢলে জালালাবাদ মনজুর মৌলভীর দোকান এলাকার দু’ইউনিয়নের সংযোগ ব্রীজটি মাঝের পিলার ও দুটি গার্ডার স্প্যানসহ তলিয়ে গেছে। এ মাসের শুরুতে ফরাজীপাড়ার বাঁধ ধসে কিছু অংশ বাকি রয়েছে। ইতোমধ্যে ভেঙ্গে গেছে মধ্য পোকখালী এলাকার বাঁধ। এভাবে সামনের ঢলে আরো কোন্ কান্ অংশ ভাঙ্গে তা ঠিক বলা যাচ্ছে না। নদীর কিনারের সবাই আতংকে দিনাতিপাত করছে।

কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহি প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, খবর পেয়েছি- তবে, এখনো লোকেশনে যাওয়া হয়নি। আজকাল পরিদর্শন করে তড়িৎ একটি ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন :
পানিতে ডুবে সুনামগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হাতীবান্ধায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত এক

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

লাশ উদ্ধার কক্সবাজার সমুদ্রে ভাসছিল অজ্ঞাত তরুণের মরদেহ

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

করোনায় দুইজনের প্রাণহানি ফরিদপুর করোনায় দুইজনের প্রাণহানি

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন