🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ১৪ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

সড়ক প্রশস্থ করার নামে ২শ’ ফলজ ও বনজ গাছ কর্তন

সড়ক প্রশস্থ করার নামে
❏ বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১ ঢাকা, দেশের খবর

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পৌর এলাকার আদমপুর থেকে প্রেমের বাজার পর্যন্ত সড়কের দু’পাশের সড়ক প্রশস্থ করার নামে ফলজ ও বনজ গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত দুদিন ধরে এসব কাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবেশ বাদী সংগঠনের নেতারা আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে । সোনারগাঁও পৌরসভার দুলালপুর-সনমান্দি সড়কের দুপাশের প্রায় ২শ’ ফলজ ও বনজ গাছ নির্বিচারে কেটে সাবাড় করছে শ্রমিকরা।

সোনারগাঁও উপজেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি’র) সড়ক প্রশস্ত করার জন্য ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ওই সড়কের দু’পাশের ফলজ ও বনজ গাছ কাটার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। স্থানীয় আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি দরপত্রের কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা গত তিন দিন ধরে সড়কের দুপাশের ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের সৌন্দর্যমন্ডিত এসব গাছ না কেটেও সড়কটি প্রশস্থকরনের কাজ করতে পারতো। সড়কের দু’পাশের এ সব সৌন্দর্যবর্ধন করা গাছ নির্বিচারে কেটে সাবাড় করার কারণে সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গাছ কাটার প্রতিবাদে সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে করবো।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন দুলালপুর থেকে সনমান্দি সড়কের ফতেকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৫০-৬০ জনের একদল শ্রমিক সড়কের দুপাশের ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ট্রাক যোগে নিয়ে যাচ্ছেন।

ফতেকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ফয়সাল জানান, সড়কের গাছগুলো আমরা যত্ন করে বড় করেছি। এখন এসব গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। বনবিভাগের এ সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে পারছি না। গাছগুলো না কেটে সড়কের কাজ করতে পারতো।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন জানান, সড়কের দুপাশ থেকে নির্বিচারে গাছ কাটার প্রতিবাদে আগামী দু’একদিনের মধ্যে আমরা আন্দোলনে যাবো।

সোনারগাঁও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি’র) প্রকৌশলী আরজুরুল হক জানান, নির্বিচারে সব গাছ কাটার পক্ষে আমরা মতামত দেইনি। শুধুমাত্র যে সব গাছ সড়কের উপরে ছিল সে সব গাছ কাটার জন্য আমরা বন বিভাগকে অনুরোধ করেছি।

সোনারগাঁও উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মামুন মিয়া জানান, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে এ গাছগুলাে লাগানাে হয়েছিল। নীতিমালা অনুযায়ী এ গাছগুলাের বয়স ১২ বছর হলে দরপত্রের মাধ্যমে তা কেটে ফেলার কথা। সময় পার হয়ে যাওয়ায় গাছগুলাে কেটে ফেলা হয়েছে। সুবিধাভােগীদের প্রাপ্য টাকাও দিয়ে দেওয়া হয়েছে বাইরের গাছ রেখে শুধু সড়কের ওপরের গাছ কেটে সড়কটি প্রশস্ত করা যেত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ হওয়ায় তা রেখে দরপত্র আহ্বানের সুযােগ নেই।

আরও পড়ুন :

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন