ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করল পুলিশ

news
❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৫, ২০২১ ঢাকা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে একটি হত্যা মামলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের ৫ নম্বর আমলি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো: তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এতে আসামি করা হয়েছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দড়ির পাড় গ্রামের প্রয়াত আলতাফ শেখের ছেলে আনিস শেখকে (৩৫)। আনিসের বিরুদ্ধে তাঁর ছোট ভাই সাদ্দাম শেখকে (৩০) হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর ধরে আনিস মানসিক ভারসাম্যহীন।

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনিসের দেখাশোনা, গোসল করানো, ওষুধ খাওয়ানোর কাজ সাদ্দামই করতেন। পিঠাপিঠি দুই ভাই তাঁরা। পাবনা থেকে প্রতি সপ্তাহে এক চিকিৎসক আসেন মধুখালী। তিনি মানসিক রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেন। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতেন আনিস। তবে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বেশ কিছুদিন আনিসের চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আনিসের অবস্থার অবনতি হয়েছিল। গত রোববার রাত পৌনে নয়টার দিকে আনিসকে গোসল করাতে বাড়ির টিউবওয়েলে নিয়ে যান সাদ্দাম। আনিস গোসল করতে চাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে আনিস একটি বাঁশ দিয়ে সাদ্দামের মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাদ্দামকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এ ঘটনায় গত সোমবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে সাদ্দামের আরেক ভাই আরিফ শেখ (৩৪) বাদী হয়ে আনিসকে একমাত্র আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ রাতেই আনিসুরকে গ্রেপ্তার করে।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মনিরুল ইসলাম। তদন্ত শেষ করে গতকাল দুপুরে আনিসুরকে অভিযুক্ত করে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

এ সম্পর্কে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে প্রকাশ্যে। সাক্ষী পেতে সমস্যা হয়নি। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনের পাঁশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও দ্রুত সংগ্রহ করে আইনের সব শর্ত প্রতিপালন করে আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, আনিস মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা সেটা পুলিশের বিচারের বিষয় ছিল না। পুলিশ দেখেছে, সেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা। মানসিক ভারসাম্যের বিষয়টি আদালত দেখবেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন