ধর্ষক স্বামীর লালসা থেকে উদ্ধার করে কিশোরীকে বুকে টেনে নিলেন স্ত্রী!

লালসা থেকে উদ্ধার
❏ শনিবার, আগস্ট ৭, ২০২১ অপরাধ, দেশের খবর, বরিশাল

বরগুনা প্রতিনিধিঃ বাসায় স্ত্রী না থাকার সুযোগে প্রতিবেশি এক কিশোরীকে নিজ বাসায় কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন রাব্বি নামের এক যুবক।

প্রতিদিন অসংখ্য ধর্ষণের শিকার অসহায় নারী/ শিশুর মতো এই কিশোরীর জীবনেও হয়তো ‘নিশ্চিত অমানিশার অন্ধকার আর সীমাহীন গ্লানি’ নেমে আসতে পারতো । কিন্তু ঘটনার শিকার কিশোরীর ‘ভাগ্য হয়তো কিছুটা প্রসন্নই ছিলো’। নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে ধর্ষকের স্ত্রীর কল্যাণেই বেঁচে যায় কিশোরী।

ঘটনাস্থল- বরগুনা থানার পৌরসভা এলাকায় নাথপট্টি সড়কের পাশে একটি বাড়িতে।

ঘটনার সময় আকস্মিক বাড়ি ফিরে স্বামী রাব্বিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্ত্রী। স্বামীর লালসার ছোবল থেকে উদ্ধার করে ভয়ার্ত কিশোরীকে টেনে নেন নিজের বুকে । একইসাথে স্বামীকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে নিজেই ফোন করেন স্থানীয় থানায়।

এই সময় স্ত্রীর ‘রনমুর্তি আর ঘৃণাদৃস্টির’ সামনে টিকতে না পেরে বাড়ি থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত রাব্বী ।

পরবর্তিতে এই ঘটনায় ব্যাপারে বরগুনা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

রাব্বি বরগুনা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে নাথপট্টি সড়কের এক কিশোরীকে রাব্বি নিজ বাসায় ধর্ষণ করার সময় তার স্ত্রী স্মৃতি আক্তার বাসায় ঢুকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। স্মৃতি আক্তার বরগুনা থানায় ফোন দিলে রাব্বি পালিয়ে যায়।

পুলিশ ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যায় থানাপাড়া এলাকা থেকে রাব্বিকে গ্রেফতার করে। রাব্বির মা জেসমিন সুলতানা স্থানীয় পৌরসভায় চাকরি করেন। তারা শহরের রেস্ট হাউজ বোর্ডিংয়ের পেছনে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, গ্রেফতারকৃত রাব্বির বিরুদ্ধে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছে। শনিবার ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আদালতে নেয়া হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ 

কালীগঞ্জে ৩ বন্ধু মিলে কিশোরীকে ধর্ষণ

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ  গাজীপুরের কালীগঞ্জে তিন বন্ধু মিলে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (০৫ আগস্ট) দুপুরে তিন জনকে অভিযুক্ত করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী। কালীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্তরা হলো—কালীগঞ্জ পৌরসভার দড়িসোম গ্রামের মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন (৪০), তার দুই সহযোগী একই গ্রামের ফিরোজের ছেলে রাজু মিয়া (২০) ও বালীগাঁও গ্রামের আজু মিয়া (৪০)।

মামলার বরাত দিয়ে মোজাম্মেল হক জানান, ওই কিশোরী বুধবার (০৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হালিম খেতে যায়। লকডাউনের কারণে হালিমের দোকান বন্ধ থাকায় স্থানীয় পুরাতন ব্যাংকের মোড়ে চটপটি খেতে রিকশায় ওঠে। কিছু দূর যাওয়ার পর ইয়াছিন লাফ দিয়ে তার রিকশায় ওঠে।

এ সময় কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কালীগঞ্জ খেয়াঘাট সংলগ্ন সরকারি খাদ্য গুদামের সামনে নিয়ে বসিয়ে রাখে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অপর অভিযুক্ত আজুর পাহাড়ায় ইয়াসিন ও রাজু মিলে জোরপূর্বক ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরী কালীগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন