তদন্তে গিয়ে পরীমনির সঙ্গে গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রেম! সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস

pori 523
❏ শনিবার, আগস্ট ৭, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি মাদক মামলায় চার দিনের রিমান্ডে আছেন। জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন তিনি। তা নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে পরীমনিকে নিয়ে।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তদন্তের খাতিরে পরিচয় পরীমনির। নিয়মিত কথা বলতে গিয়ে তৈরি হয়েছে প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় গাড়ি নিয়ে ঘুরতে যেতেন তারা। ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন পরীমনি। পাওয়া গেছে সিসিটিভির ফুটেজও।

ওই কর্মকর্তার নাম গোলাম সাকলায়েন শিথিল। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হিসেবে কর্মরত। রাজাবাগ অফিসার্স কলোনীর মধুমতি ভবনের ৯/সি সরকারি ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি। সবশেষ গত ১ আগস্ট ওই ফ্ল্যাটেই গিয়েছিলেন পরীমনি। ১৮ ঘন্টা ওই বাসায় অবস্থান করেছিলেন পরীমনি ও সাকলায়েন। জিজ্ঞাসাবাদে অকপটে বিষয়টি স্বীকার করেছেন এ নায়িকা।

ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাকলায়েন। তার সঙ্গে পরীমনির সম্পর্কের খোঁজ পাওয়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা দপ্তরে।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ১ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিট। পরীমনির সাদা রংয়ের হ্যারিয়ার গাড়িটি থামে মধুমতি ভবনের সামনে। এরপর সাদা রংয়ের স্লিপিং গাউন পরে নামেন পরীমনি। নায়িকার কোলে ছিল তার পোষা কুকুরটি। বাসভবনের নিচে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে বাসার চাবি নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর দুজন লিফটে করে বাসায় যান। এরপর পরীর গাড়ি থেকে একটি ট্রলি ব্যাগও ওই বাসায় নেওয়া হয়।

এরপর রাত দেড়টার দিকে আবারও ওই বাসার সামনে আসে পরীর গাড়ি। রাত সোয়া দুইটার দিকে পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে নীচে নেমে আসেন পরীমনি। তার সঙ্গে ছিল পোষা কুকুর আর ট্রলি ব্যাগ। সকালে পরীমনির পরনে ছিল কালো রংয়ের পোশাক আর সাকলায়েনের পরনে ছিল সাদা টিশার্ট।

সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমনির প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতেন পরীমনির সহযোগী দীপু। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পরীমনিই তাকে এ বিষয়টি জানিয়েছেন। সাকলায়েন নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করেছেন। পরে জানা যায় তিনি বিবাহিত। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন পরীমনি।

জানা গেছে, সাকলায়েনের স্ত্রী প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি জেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

পরীমনির গাড়িচালক নাজির হোসেন সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১ আগস্ট পরীমনিকে রাজারবাগের সরকারি কোয়ার্টারে নামিয়ে দিয়ে আসেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে পরীমনি দুই দিন রাতে হাতিরঝিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। গাড়িতে বসেই তারা মদ খেয়েছেন।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে গোলাম সাকলায়েন শিথিল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পরীমনির সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে তা প্রেমের সম্পর্ক নয় এবং তারা বিয়েও করেননি।’

পরীমনি তার বাসায় যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েন। তবে বাসায় যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানালে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

এদিকে পরীমনির সঙ্গে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত করবে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। সিআইডি কার্যালয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এক ব্রিফিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক

ওমর ফারুক বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সে যদি কোনো মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও হন তাকেও আমরা প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করব। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা সবাই ব্যবস্থা নেব।

‘এসব মামলার সঙ্গে যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই জড়িত থাকুক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সকলকে আমরা আইনের আওতায় আনব।’

আরও পড়ুন :

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন